বাংলা ট্রিবিউন-ইউল্যাব বৈঠকি

মেট্রোরেলের সঙ্গে সড়কব্যবস্থার সমন্বয় করলে ভোগান্তি কমবে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:১১আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:২৪

মেট্রোরেলের সুফল পেতে এর সঙ্গে সড়কব্যবস্থার সমন্বয় করতে হবে। এতে নাগরিকদের চলাচলে ভোগান্তি অনেকাংশ কমে আসবে বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য ড. এসএম সালেহ উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত ‘শহরে আসছে মেট্রোরেল’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা।

ড. এসএম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পরিবহন সেক্টরে ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের যে বিষয়টি রয়েছে, সেখানে ডিমান্ড অনেক। ঢাকার মতো আয়তনে ছোট একটা শহরে প্রায় ২ কোটি লোকের বাস। সেখানে শুধু বাস রুট রেশনালাইজেশন দিয়ে এই চাহিদা মেটানো যাবে না। আমরা মেট্রোর সঙ্গে বাস স্টেশনগুলো সমন্বয় করবো। যাতে করে কোথাও বাসের স্টেশনের জন্য আলাদা জায়গার প্রয়োজন না হয়। এই মেট্রো হওয়ার ফলে এখন নিচ দিয়ে দুপাশে যে চার লেনের রাস্তা হয়েছে তার সঙ্গে বাস রুট রেশনালাইজেশন বিষয়টির সমন্বয় করতে হবে। তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এবং আমার মনে হয় এর সঙ্গে সড়কের উপর যে চাপ পড়তো তা অনেকাংশে কমে যাবে। মাস্টার রুট রেশনালাইজেশন জন্য এই মেট্রোরেল আরও পজিটিভ রোল প্লে করবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক আশা করি কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে কিছু বলতে হয়। পাঁচটি মেট্রো হবার পরেও সড়কে ৫৬ পার্সেন্ট থাকবে বাস। সুতরাং মেট্রো আমরা যতই করি না কেন যানজট একেবারেই নিরসন হয়ে যাবে এটা এখনও আশা করা যাবে না। বাস রুট রেশনালাইজেশনের জন্য দুই মেয়র নিয়ে অনেক কাজ করছি। আমরাও কাজ করে যাচ্ছি।

মেট্রোরেলের দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পেতে কর্তৃপক্ষসহ ব্যবহারকারী সকলকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে মন্তব্য করে এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, মেট্রো নির্মাণ থেকে শুরু করে এর নিয়মিত পরিচর্যা খুব ব্যয়বহুল। এগুলো কিন্তু আমাদের ধরে রাখতে হবে। সকলকে এর কদর রাখতে হবে এবং মেট্রোরেলের নিয়মিত পরিচর্যা যেন সার্বক্ষণিক চালু থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মেট্রোর ভাড়া নিয়ে যে কথাটা হচ্ছে সেখানে বলতে হয়, আমাদের ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা জাপানকে ফেরত দিতে হবে। এবং আমাদের যে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি—এটাও তো উঠে আসতে হবে।

মেট্রোরেল বাস্তবায়নে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. এসএম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে প্রথম মেট্রোরেল চালু হওয়া অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয়। আমাদের দেশ, অর্থনীতি এবং জীবনধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পদ্মা সেতু হলো, মেট্রো হতে যাচ্ছে সামনে আরও কয়েকটি প্রজেক্ট আসছে। এসব দেখে গর্ববোধ করছি ও সত্যিকার অর্থে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে তারা এটি বাস্তবায়নের পথে নিয়ে আসছে।'

বৈঠকিতে আরও যুক্ত ছিলেন—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক।

/জেডএ/এমএস/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
ঈদের ছুটিতে মেট্রোরেলে দিনে দেড় লাখের বেশি যাত্রী
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে