বাংলাদেশের গণপরিবহনে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে মেট্রোরেল। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আসবে। তবে সবচেয়ে উপকৃত হবেন নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তিনি মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পেরও উপদেষ্টা।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘ঢাকার গণপরিবহনে মেয়েদের যে কত বিড়ম্বনা! গোপনীয়তা লঙ্ঘনসহ কত বিড়ম্বনা যে হজম করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা! তাদের পড়াশোনার জন্য, চাকরির জন্য যাতায়াত করতেই হবে। উনারা তো স্লো প্যাসেঞ্জার, কেউ বাসে তুলতে চায় না, তুলতে গেলেও চাপাচাপি করতে হয়। চাহিদা তো অনেক। নামার সময় ধাক্কাও দিতো। প্রাইভেসি লস। কিন্তু এখন তারা সম্ভ্রম বজায় রেখে চলাচল করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও আর যে এক বিরাট সংখ্যক কর্মজীবী নারী, যাদের যাতায়াত ছিল ব্যয়বহুল। হয় তারা এতদিন পর্যন্ত গাড়ি কিনেছেন, না হলে সিএনজি বা উবারে যেতেন। তারা শালীনভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। যা কোনও গণপরিবহনই দিতো না। তারা ছিল অবহেলিত। তাদের মেট্রো হবে আশা জাগানিয়া।’
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেট্রোরেলে নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিটি স্টেশনে ওঠানামার জন্য লিফট দেওয়া আছে। সেখানে তারা প্রাধিকার পাবে। প্রতিটি ট্রেনে আলাদা করে কোচে আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ড. শামসুল হক জানান, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার নিয়ে টিকিট সংগ্রহ করা ও ট্রেনে ওঠার জায়গাটি সমতল রাখা হয়েছে। এছাড়া শৌচাগার ও ট্রেনের ভেতরে আলাদা ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
তিনি মনে করেন, যদি মেট্রো লাইনের সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হতো, তাতে বিনিয়োগ খরচ কম হতো এবং যাত্রীদের ভাড়াও কম রাখা সম্ভব হতো। যাত্রীরাও মেট্রোরেলে আরও বেশি আগ্রহী হতেন।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি ভাড়া দিয়ে চলবো, এটা একটা প্রাগৈতিহাসিক চিন্তা। এতবড় বিনিয়োগ, শুধু ভাড়া থেকে উঠে আসবে টাকা, এটা অনেক পুরনো চিন্তা। আয়ের বিভিন্ন খাত আছে। স্টেশনের পাশে সবাই থাকতে চায়। সেজন্য স্টেশনের পাশে বাণিজ্যিক উন্নয়ন করে সেখান থেকে আয় করে আমজনতার জন্য ভাড়া ভর্তুকি হিসেবে ইনজেক্ট করতে হবে।’
তিনি মনে করেন, ‘ভাড়ায় কোনও বাধা থাকবে না। এখানে বাণিজ্যিক চিন্তা করলে হবে না। যানজট কমানোর কৌশল হিসেবে ভাড়া কমাতে হবে, যাতে অন্যান্য পরিবহনের চেয়ে সাশ্রয়ী ভাড়ায় এ পরিবহন ব্যবহারে মানুষ আগ্রহী হয়। ভাড়া বাড়িয়ে বাধাগ্রস্ত করলে রাস্তার যানজট কমবে না।’
ড. শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এক টিকিটে মেট্রোসেবার পাশাপাশি বাসের ফিডার সার্ভিস দিলে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের স্টেশন থেকে নেমে গন্তব্য যাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হতো না। এখানে আলাদা ব্যবস্থা করায় ও সব পরিবহনকে সুযোগ দেওয়ায় স্টেশনের নিচে বাস, সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন পরিবহনের নৈরাজ্য তৈরি হবে।'
স্টেশনের ভূমি ব্যবহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা না করা ও ফুটপাতের ওপর মেট্রো স্টেশনের সিঁড়ি বসানোয় সুফল বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি মনে করেন।








