পরিবারের সদস্য, বন্ধু, প্রতিবেশিকে আবিরের রঙে রাঙিয়ে পুরান ঢাকায় উদযাপিত হচ্ছে হোলি উৎসব। দোলযাত্রা বা দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি, আধুনিক সংযোজন দোল বা হোলি খেলায় গা ভাসিয়েছেন পুরান ঢাকার শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দিনভর পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ অন্যান্য হিন্দুপ্রধান এলাকায় ছিল হোলির আমেজ। সকালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণর পায়ে রঙ মেখে সেই রঙ শরীরে লাগিয়ে শুরু হয় উৎসবের সূচনা। শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দুধর্মালম্বীরা ভিড় জমান, মেতে ওঠেন রঙের খেলায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহাগ ঘোষ বলেন, ‘আমরা পরষ্পরকে আবিরে মাখিয়ে হোলি খেলছি। শুধু হিন্দু ধর্মালম্বী নয়, আমাদের অন্য ধর্মালম্বী সহপাঠীরাও উৎসবে যোগ দিচ্ছেন, সব মিলিয়ে এটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। হোলি উৎসবে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটাই প্রত্যাশা।’
শাঁখারীবাজারের বাসিন্দা সাধন ঘোষ বলেন, ‘ছোটোবেলায় আমরা শুধু বাড়ির বড়দের প্রণাম করতাম। এখন তো এটি খেলায় রূপ নিয়েছে। সবাই আনন্দ করে, রঙ মাখায়, ভালো লাগে।’
হিন্দুধর্ম মতে, দোলযাত্রা হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী এ দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোলযাত্রার দিনে আবির রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় পরস্পর তারা রঙ খেলে আনন্দে মেতে ওঠেন। পূর্বে সন্তুষ্টির আশায় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার প্রতিমার পায়ে আবির লাগানোর পর বড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের পায়ে আবির লাগিয়ে প্রণাম করার রীতি থাকলেও বর্তমানে তা খেলা ও উৎসবের রূপ নিয়েছে।









