সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে ঢাকামুখি প্রধান সড়কগুলোতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি এবং তা প্রতিহত করতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সতর্ক অবস্থানের কারণে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছিল গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায়। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে সেখানকার বাস কাউন্টারগুলো। কাউন্টারের কর্মীরা জানান, সকাল থেকে কাউন্টার বন্ধ রাখতে হয়েছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যাত্রী আসেনি। বিকালের পরও যাত্রী নেই অধিকাংশ বাস কাউন্টারে।
শনিবার (২৯ জুলাই) গাবতলীর এস এ খালেক বাস স্ট্যান্ডের সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবস্থা কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল বিএনপির। তবে সকাল ৮টা থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। এর পরই যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতারা সড়কের ওপর মঞ্চ তৈরি করে অবস্থান নেন। তারা দল বেঁধে মিছিল ও মোটরসাইকেলে গাবতলি মাজার রোডে শোডাউন করেন।
পরে সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান কিছু নেতাকর্মীসহকারে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাদের চলে যেতে বলে। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদের উঠে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। আমানউল্লাহ আমানসহ আরও কিছু কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে এর মাঝে কয়েকদফা সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করে দুই পক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে পুরো গাবতলী এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। কাউন্টারগুলোও খুলতে দেখা যায় না। পরে বিকাল ৩টার পর থেকে কাউন্টারগুলো খোলা হয়।
গাবতলীর একটি কমিশন কাউন্টারের ম্যানেজার মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাউন্টার থেকে কেবল সকালেই ২০-৩০টা টিকিট বিক্রি হয়। শনিবার সকালে এসেছিলাম, পুলিশ কাউন্টার খুলতে দেয়নি। বিকালেও যাত্রী নেই।’
আরেক কাউন্টারের কর্মী সোহেল রহমান বলেন, ‘সকালে হেমায়েতপুর থেকে আসতে গিয়ে তিনবার পুলিশ চেক করেছে। ৯টার দিকে এসে অবস্থা ভালো না দেখে শাটার নামিয়ে বসে ছিলাম। ৩টার দিকে খুলে বসে আছি। এখন পর্যন্ত একটা যাত্রীরও দেখা নাই।’
টার্মিনালের ভেতরের কাউন্টারগুলো সকাল থেকে বন্ধ ছিল। রাস্তায় ছিল না কোনও দূর পাল্লার বাস।









