ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের গৃহীত সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা বসে নেই। কিন্তু জনগণকেও যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে স্প্রিংডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
শুরুতে ডিএনসিসি মেয়র স্কুলটির শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্টুন বই বিতরণ করেন। পরে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন।
মেয়র বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি পুরো ডিএনসিসি এলাকায় যাচ্ছি। আমরা কেউ বসে নেই। সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করছে। লার্ভা পেলে জরিমানা করা হচ্ছে। কাউন্সিলররা নিজ নিজ এলাকার ইমাম, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করছেন। সিটি করপোরেশন অবশ্যই দায়িত্ব পালন করবে, করে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণকেও যার যার যায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। সবাইকে ক্যাম্পেইনে যোগ দিন।’
তিনি বলেন, ‘সচেতনা কাজে ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। ফেসবুকে শেয়ার করুন, কোথাও পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন। সবাই মিউচুয়াল ফ্রেন্ডদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দিন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিটি স্কুল, কলেজে নিজদের আঙিনার পাশাপাশি আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘বিদেশে গেলে কিন্তু আমরা নিজের কাজ নিজে করি। দেশেও আমাদের নিজেদের আঙিনা নিজেদের পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন পুরো বাড়ি পরিষ্কার করলে আমরা সুরক্ষিত থাকতে পারবো। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আর একটিও মৃত্যু যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। ইতোমধ্যে বিটিআই প্রয়োগ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই সপ্তাহের প্রয়োগকৃত বিটিআইয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য ইভ্যালুয়েশন টিম মাঠে নামবে। ঠিকমতো সবাই কাজ করছে কিনা এটিও মনিটরিং করা হবে।’
এ সময় মশক কর্মীদের জবাবদিহি বাড়াতে বডি ক্যাম লাগানো হবে বলেও জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম।
বক্তৃতা শেষে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তাদের নিয়ে স্কুলের আঙিনা ও স্কুলের প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাত পরিষ্কার করেন মেয়র আতিক।
সভায় অন্যান্যের সঙ্গে ছিলেন– ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়ন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান প্রমুখ।









