অশুভ শক্তিকে শোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। আজ শনিবার (২১ অক্টোবর) চলছে সপ্তমির আরাধনা। মহাসপ্তমীতে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন ভক্তরা। দেশের সব মন্দিরের মতো মহা ধুমধামে পূজা চলছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ও রমনা কালী মন্দিরে। আর মন্দির ঘিরে বসেছে বাহারি খাবারের দোকান।
শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে মন্দিরে ভক্তদের তেমন দেখা না মিলরেও বিকালে দেবী ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকে। ছোট-বড় সবাই আসছেন ঠাকুর দেখতে। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, পূজা দেখতে আসছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও।
কালি মন্দিরে দেখা যায়, বাংলা অ্যাকাডেমির গেট দিয়ে ঢুকে মূল ফটকের ঠিক সামনেই হাতের ডানে শিবমূর্তি। দেবির দর্শনের আগে সবাই একটু দাঁড়িয়ে শিব ঠাকুরের আরাধনা করে নিচ্ছেন। এরপর ভেতরে ঢুকেই যে যার মতো ঠাকুর দর্শন, পুজো করছেন। আগরবাতি-ধুপ ধোঁয়ার সঙ্গে শাঁখের ধ্বনিতে দেবীর আরাধনা করছেন ভক্তিকুল।
পূজামণ্ডপের দিকে যাওয়ার পথে দুই ধারে বসেছে হরেক রকমের খাবারের দোকান। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে আমিষ ও নিরামিষ খাবার। রয়েছে হরেক রমকমের মিষ্টি, সন্দেশ, বাতাসা। এসব দোকান বসেছে শুধু দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই।
শ্রী দূর্গা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বিক্রেতা দীপন সাহা বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই দোকান। বিকালেই মূলত মানুষ আসে। আমাদের দোকানও বিকালেই খুলি। রাত যত বাড়ে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়ে, বাড়ে বিক্রিও। সারা রাতই দোকান খোলা রাখতে হয়।’
সোনারগাঁও পিঠাঘরের বিক্রিতা তানিম হোসেন বলেন, ‘আমরা নানা ধরনের নকশি পিঠা বিক্রি করছি। সব ধর্মের মানুষ আসেন, কিনছেন। দিনের বেলায় বিক্রি একটু কম থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে বিক্রি বাড়ে। ব্যস্ততায় রাত কেটে যায়।’
বিন্দাস পিওর ভেজ দোকানের বিক্রেতা নির্মল চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমাদের দোকান শুধু নিরামিষভোজীদের জন্য। আমাদের ধর্মের অনেকেই আছেন যারা আমিষ খান না। তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। কিন্তু এ আয়োজনে অন্য ধর্মের লোকেরাও নিরামিষ খাচ্ছেন।’
এছাড়াও পূজার বিভিন্ন উপকরণ, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর, ধুপসহ নানা উপকরণ বিক্রি হচ্ছে পূজামণ্ডপে প্রবেশ পথের দুপাশে।
কালী মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা বলেন, ‘আমাদের পূজা সব ধর্মের মানুষের জন্য। আমাদের কথা হলো, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমাদের পূজামণ্ডপ এলাকায় সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’









