ঢাকার ৪ খালের সীমানা নির্ধারণ শুরু আগস্টে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ জুলাই ২০২৪, ১৭:১৭আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১৮:৫২

আগামী আগস্ট থেকে রাজধানীর জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে খাল পুনরুদ্ধারের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) এ আয়োজন করে।  

মেয়র তাপস বলেন, ‘আমরা যে খালগুলো ওয়াসার কাছ থেকে পেয়েছি তার মধ্যে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর এবং কালুনগর খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকে আমাদের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। খালগুলো পাওয়ার পর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে দখলমুক্তির কাজ শুরু করি। শ্যামপুর খালের একটি অংশ ১০০ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে আমরা পেয়েছি ৮ ফুটের একটি নালা। এ রকম চিত্র প্রায় সব জায়গায়।’

প্রকল্পের আওতায় সিএস, আরএস, এসএ নকশা, বিষদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং পানি আইন অনুযায়ী এই চার খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্তি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী মাস থেকে ব্যাপকভাবে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করবো। এ কাজে অনেক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক চাপ, প্রভাব রয়েছে। সেই চাপ, প্রভাব, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ, ঢাকাবাসীর সোচ্চার ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করছি।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছরে গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর যেসব জায়গায় আধা ঘণ্টার বেশি বৃষ্টির পানি জমা থাকে, সেসব জায়গা ও স্থানকে জলাবদ্ধ বলে আমরা চিহ্নিত করছি। ২০২০ সালের পর থেকে আমরা এ রকম ১৬১টি জায়গা চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে ১৩৬টি জায়গায় আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পেরেছি। বাকি জায়গাগুলোতে কাজ চলমান। এছাড়া এবার ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে এবং গত বছর নতুন কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে। এরকম আরও ৫০টি জায়গা আমরা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকা, নায়েম সড়ক, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের সামনে গত বছর নতুন করে জলাবদ্ধতা পেয়েছি। যখন আমরা তদন্ত করে কারণ উদঘাটন করলাম, দেখলা ময়লা জমে নর্দমাগুলো ভরে গেছে।’

বিগত দিনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার নানা অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘পুরান ঢাকার মূল জায়গা বংশাল, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া। বংশালে দীর্ঘ ৪০ বছর কোনও কাজ হয়নি। অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি, নিকটবর্তী স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার ঘুরিয়ে দূরবর্তী স্থান দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বংশাল এলাকার পানি ফুলবাড়িয়া হয়ে নর্থ-সাউথ সড়ক দিয়ে ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশিত হতো। আমরা সেটি ৬ ফুট ব্যাসের নর্দমার মাধ্যমে সরাসরি বাবুবাজার সড়ক দিয়ে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যাচ্ছি। আগামী ৩০ বছরেও সেখানে আর জলাবদ্ধতা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘একইভাবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে গত বছর আমরা জলাবদ্ধতা পেয়েছি। সেখানেও দেখলাম, বকশিবাজার থেকে আজিমপুর হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সেটা সরাসরি বকশিবাজার থেকে চকবাজার হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘আমি জানি মেয়র মহোদয় খুবই শক্ত অবস্থান নেন। যারা খাল দখল করেছেন, তারাও কিন্তু কম শক্তিশালী না। দখলদারদের নামগুলো দেখলেই বুঝবেন তারা কতটা শক্তিশালী। সুতরাং এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে যে, আমরা উদ্ধার কাজটাও করবো। একইসঙ্গে স্থায়ী সংরক্ষণের একটা ব্যবস্থা নেবো। এ জন্য সরকারের কমিটমেন্ট দরকার।’

বিদ্যমান সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় উপস্থাপন করে ভোরের কাগজের সম্পাদক বলেন, ‘একটা শহরে সরকারের ১৪টার মতো সেবা সংস্থা কাজ করে। সিটি করপোরেশন শুধু একাই সরকারের একটা সংস্থা নয়। ওয়াসা বলে তারা স্বাধীন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বলে তারাও স্বাধীন। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, রাজউক স্বাধীন সংস্থা হলেও সিটি করপোরেশনের নগরায়ণের পরিকল্পনা দেয় রাজউক। অথচ দুই সংস্থার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।’ এটি সাংঘর্ষিক নীতি বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ সময় মেয়রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘খাল উদ্ধার করে কী করবেন? রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তো খালের পাড়ে ১৪তলা ভবনের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। এখানে সিটি করপোরেশন কী করবে? সিটি করপোরেশন কি ভাঙতে পারবে?’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে হাতিরঝিলে ২০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙিয়েছেন। কিন্তু সেখানে এখন যা হচ্ছে, তা বন্ধে কোনও পরিবেশবাদীদের দেখি না। উল্টো শুনছি, সেই প্রকল্পে তারা পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করছেন। তাহলে খাল উদ্ধার করে লাভ কী?’

ডুরার সভাপতি ওবায়দুর মাসুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড.আদিল মুহাম্মদ খান। আরও বক্তব্য দেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন– দক্ষিণ সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ, সংরক্ষিত আসনের নারগীস মাহতাব।

/এএইচএস/আরকে/
সম্পর্কিত
ঢাকায় ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে কোন ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী