ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডিএসসিসির প্রশাসক ড. মহ. শের আলী সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৪ আগস্ট প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের আগেই ২ সেপ্টেম্বর নগর ভবনে প্রবেশ করেন বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী। এ সময় তিনি আদালতের বিবৃতি দিয়ে নগরভবনের সবাইকে বলেন, ‘আদালত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন।’ কিন্তু ডিএসসিসি সূত্রমতে, তার সাময়িক বরখাস্ত স্থগিতের এমন কোনও নোটিশ আসেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। নগরভবনে তিনি একক আধিপত্য বিস্তার করেন। বিরোধীদলীয় মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে মাত্র এক দিনের মধ্যেই নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান আশিকুর রহমান। এমনকি সর্বশেষ গত দুই বছর আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলীর পদও। দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদেও।
জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প, সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, করপোরেশনে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ফ্লাইওভার প্রকল্পের সময় আশিক প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। ওই সময় নির্মাণ প্রকল্প ব্যয় ৮শ’ কোটি টাকা ছিল। প্রকল্প পরিচালক সে ব্যয় প্রায় ২২শ’ কোটি টাকা করেন। এ ছাড়া মতিঝিল সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে অসম চুক্তি করেন। এই প্রকল্পে ৭৮ ভাগ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং মাত্র ২২ ভাগ পায় সিটি করপোরেশন। এমন অসম চুক্তি করলেও আশিকুরের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই ধরনের আরেকটি প্রকল্প সানমুন টাওয়ার নির্মাণ। এই প্রকল্পে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পায় ৭৫ ভাগ এবং করপোরেশন পায় ২৫ ভাগ। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় মামলা হয় তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শিহাবউল্লাহর বিরুদ্ধে। ওই মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটেন প্রকল্প পরিচালক। একই ধরনের দুর্নীতি করেও রেহাই পেয়ে যান সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আশিকুর রহমান।








