রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ওরফে ব্লেড বাবু হত্যারে ঘটনায় আরও দুই জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-মিরপুর বিভাগ। তারা হলো, রাজন ওরফে পিচ্চি রাজন (৩৫) ও রনি (২৬)। তারা আপন দুই ভাই।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের দেখানো মীরপুরের স্বপ্ননগর নতুন রোডের একটি চায়ের দোকানের পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত ২০ জানুয়ারি বিকালে পল্লবীর বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে আধিপত্য বিস্তার, চুরি ও ছিনতাইয়ের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাজন গ্রুপের সদস্যদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও মারধরে মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ওরফে ব্লেড বাবু গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২১ জানুয়ারি পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মিম।’
এর আগে ছয় জনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে ডিসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। হত্যায় জড়িত মো. মুরাদ (২৭), ইরফান হোসেন তুফান (১৯), রাব্বি ওরফে কুত্তা রাব্বি (১৮) ও সাজ্জাদসহ মোট ছয় জনকে পল্লবীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
মতিঝিলে আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যা জড়িত সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে ওমান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাবু হত্যায়ও তার নাম শোনা যাচ্ছে। মুসার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুসা এই হত্যাকাণ্ডের ১ নম্বর আসামি। আমাদের তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।’
কিশোর গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছি। বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে যে অপরাধগুলো হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান। তাদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মামলা দায়ের চলমান রয়েছে।’
বাবু হত্যায় জড়িত অন্যতম দুই আসামি গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেন ডিবি মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সোনাহর আলী। তিনি বলেন, ‘হত্যায় জড়িত দুই ভাই ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল। তারা গ্রেফতার এড়াতে পদ্মার বিভিন্ন চরে আত্মগোপন করে। পরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’









