শেষ বেলায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল সোয়া ৪টা দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার সামনের মোড়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনায় তাদের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সুর মেলান। এরপর তারা শপথ করেন— অধিকার আদায় না করে ক্লাসে ফিরবেন না।
এর আগে বিভিন্ন বিপ্লবী গান ও কবিতা আবৃত্তি করেন জবির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।
বুধবার (১৪ মে) সারা রাত প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল ১০টার পর থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তাও এই সময়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেনি। মাইকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।
প্রসঙ্গত বুধবার (১৪ মে) দুপুর পৌনে ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করে। প্রথমে গুলিস্তান মাজার গেটে বাধার সম্মুখীন হয়। পরে মৎস্য ভবনে আবারও পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনা অভিমুখে এগিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে আসতেই অতর্কিত টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি নিক্ষেপ করতে শুরু করে পুলিশ। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো— আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।








