বিদ্যুৎ সেবা চালু রেখে ৭ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যতদিন এই দাবি আদায় না হবে, ততদিন শহীদ মিনারেই অবস্থান করবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (২১ মে) থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) তারা কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধায় অসামঞ্জস্যতা, পদোন্নতি ও চাকরির নিরাপত্তার অভাবসহ মোট ৭টি দাবি তুলে ধরেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিদ্যুৎ কর্মচারীদের জন্য আলাদা পেনশন স্কিম চালু, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ এবং কর্মীদের জন্য বিশেষ ইনক্রিমেন্ট চালুর দাবি।
তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই কর্মসূচি চলাকালীন সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনও ধরনের সেবা বিঘ্নিত হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি পূরণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতারা।
দ্বিতীয় দিন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়ক মাজহারুল ইসলাম সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতা, সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।
কর্মসূচিতে ‘চুক্তি থেকে মুক্তি চাই, নিয়মিত চাকরি চাই’; ‘আরইবির দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিপাত যাক’; ‘চেয়ারম্যানের অপসারণ, শহর গ্রামে বিদ্যুৎ বৈষম্য দূরীকরণ’সহ নানান স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীলকারী, অত্যাচারী আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ; এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা দেশের অন্যান্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন; মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক এবং পোষ্য কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পদে পুনর্বহাল; গ্রাহক সেবার স্বার্থে লাইনক্রুসহ সব হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মীদের অবিলম্বে পদায়ন; জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা শিফটিং ডিউটি বাস্তবায়নের জন্য অতিদ্রুত জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে; পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।









