এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী আবু তাহের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা শুনেছেন। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অনু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সংসদীয় কমিটির পরামর্শে নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ দূষণ রোধে একটি অ্যাকশন প্লান নিচ্ছি। আশা করছি আগামী বছরের শুরুতে পরিকল্পনাটি শুরু করতে পারবো। এটি সফল হলে অন্য জায়গায়ও এ ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ দূষণ রোধে একটি কর্মপরিকল্পনার খসড়া হয়েছে। নাসিক মেয়রের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত করা হবে। এটা বাস্তবায়নে সফলতা এলে ঢাকার আশপাশের অন্য জেলাতেও এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
অধিদফতর প্রণীত অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনার আওতায় আছে—
নদী দূষণ রোধে সাব/জেলা কমিটি গঠন, নদী দূষণের ধরন ও উৎস চিহ্নিতকরণ, পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন কারখানা চিহ্নিতকরণ, ইটিপি বিহীন শিল্প কারখানা চিহ্নিতকরণ, দূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে সুপারিশ প্রণয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পয়ঃবর্জ্য যাতে শীতলক্ষ্যা নদীতে অপরিশোধিত অবস্থায় নির্গমণ না করা হয় সেজন্য বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট স্থাপনের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ।
আরও আছে বায়ুদূষণের ধরন ও উৎস চিহ্নিতকরণ, বায়ু দূষণকারী কারখানা চিহ্নিত ও তাদের বিরুদ্ধে সুপারিশ প্রণয়ন, কঠিন বর্জ্য দ্বারা দূষণের ধরন ও উৎস চিহ্নিতকরণ, অপরিকল্পিত কঠিন বর্জ্য ডাম্পিংয়ের স্থান চিহ্নিতকরণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রণয়ন।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর সমন্বয়ে অবৈধ ইটভাটার তালিকা হালনাগাদকরণ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, চিকিৎস্যা বর্জ্যের পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, শব্দদূষণকারী প্রতিষ্ঠান/স্থাপনা চিহ্নিতকরণ শব্দদূষণকারী কারখানা/স্থাপনার বিরুদ্ধে সুপারিশ প্রণয়ন, জলাধার ভরাটকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ বন্ধকরণ, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা চিহ্নিত করা, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা চিহ্নিতকরণ, নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রয়/মজুতকারী বাজার এলাকা চিহ্নিতকরণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সবুজায়নের লক্ষ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণকারী সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চলের খালি জায়গা/বাউন্ডারি সংলগ্ন স্থানে বনজ/জলদ/ঔষধি বৃক্ষ রোপণের ব্যবস্থা গ্রহণ, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থাকরণ, দূষণ বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কর্মশালার আয়োজন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মধ্যমেয়াদে নদী দূষণ বন্ধে পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইটিপিবিহিন কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ, যথাযথ মনিটরিং, সিটি করপোরেশনের পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট স্থাপনের প্রকল্পগ্রহণ, বায়ু দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি নির্মাণ কাজে ব্লক ইটের ব্যবহার, চিকিৎসা বর্জ্যের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, শব্দ দূষণে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ আদায়, জলাধার ভরাটকারী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়’ পলিথিন ব্যাগ বন্ধে উৎপাদক, সরবরহকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পলিথিনমুক্ত বাজার ঘোষণা করা, সবুজায়নে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বৃক্ষরোপণের আওতায় আনা।
কর্মপরিকল্পনার আওতায় আরও আছে— দীর্ঘমেয়াদে নদী দূষণ বন্ধে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপিবিহীন কারখানায় অভিযান/মামলা দায়ের/ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, অনলাইনে ইটিপি মনিটর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে গবেষণাগার স্থাপন, সিটি করপোরেশনের পয়ঃবর্জ্য যাতে শীতলক্ষ্যায় অপরিশোধিত অবস্থায় না পড়ে সেজন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন, বায়ুদূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যহত রাখার পাশাপাশি সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, বাতাসের গুণগত মাণ পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রকল্প গ্রহণ, সকল ক্ষেত্রে ব্লক ইটের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ সম্মত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ, মামলা দায়ের ও সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ।








