জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনও সরকারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না: মাসুদ কামাল

শফিকুল ইসলাম
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০০আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৯

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যারাই সরকার গঠন করুক না কেন, সেই সরকার কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনও সরকারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া এই নির্বাচন পরিপূর্ণ হবে না। দেশের চলমান অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামী নির্বাচন এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, বিজয়ী সরকারের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই

মাসুদ কামাল: নির্বাচন নিয়ে আমার প্রথম প্রত্যাশা হলো—এটি যেন শান্তিপূর্ণ হয় এবং মানুষ যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ আছে, জনগণ কোন আদর্শ বেছে নেবে সেটি তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ। তবে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে, মানুষ যেন করাপ্ট (দুর্নীতিবাজ) লোকদের বেছে না নেয়। সব দলেই ভালো-মন্দ লোক আছে। ভোটারদের উচিত নিজ এলাকার দেশপ্রেমিক, সৎ এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করার মতো মানসিকতা রাখে এমন প্রার্থীকে জয়ী করে। দুর্নীতিপরায়ণ লোক যেন নির্বাচিত না হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: নতুন সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? 

মাসুদ কামাল: নতুন সরকারের কাছে আমার দুটি প্রধান চাওয়া। প্রথমত, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে তারা যে অঙ্গীকারগুলো করবে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর যেন তা ভুলে না যায়। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের পরপরই তারা যেন মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে। সারা দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যেও যেন একটা ঐক্য কায়েমের চেষ্টা করে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন সম্ভব নয়। আর জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশ এগোতে পারে না। আমি মনে করি, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা না গেলে নতুন যে সরকার গঠিত হবে সেই সরকারও মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। কাজেই জাতীয় ঐক্যটা খুব জরুরি। বিজয়ী দল জাতীয় ঐক্যের জন্য নির্বাচিত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই চেষ্টা করবে— এটিই আমার প্রত্যাশা। 

বাংলা ট্রিবিউন: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে কোনও সংশয় রয়েছে আপনার?

মাসুদ কামাল: আমার মনে হয় নির্বাচন হয়ে যাবে। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ হলো, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচন চায়। এখন নির্বাচন না হলে এসব দলই যে চাপ সৃষ্টি করবে, এই চাপ সামলানোর ক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই। দ্বিতীয় কারণ হলো, সরকারের জনপ্রিয়তা—যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে দেশটা চালাবে কে? বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রিয়তার হিমাঙ্ক (সূচক) এত নিচে নেমে গেছে যে এরা যদি বলে আমরা আর মাত্র দুই মাস ক্ষমতায় থাকতে চাই, সাধারণ মানুষ সহ্য করবে না। দেশের মানুষের মধ্যে এমন চিন্তা আমি দেখেছি যে তারা এখন জানতে চায়—এই সরকার কত দ্রুত বিদায় নেবে। তারা সেটি চায়। এই বাস্তবতায় নির্বাচন হওয়াটাই যৌক্তিক।

বাংলা ট্রিবিউন: আওয়ামী লীগ ছাড়া এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপনার মতামত কী?

মাসুদ কামাল: আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া অসম্ভব নয়, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতেই পারে। কিন্তু এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাবে। ভোটারদের ঠিকমতো ভোট দিতে পারা, ভোটে কারচুপি না হওয়া মানেই তো নিরপেক্ষতা, কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন করলে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিপূর্ণতা পায় না। একে আমি পরিপূর্ণ নির্বাচন বলি না। নির্বাচনটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে—সেটি পরে বোঝা যাবে। কিন্তু আমার মনে হয় সেই নির্বাচন খুব একটা ভালো হবে না। কারণ, আওয়ামী লীগের প্রচুর ভোটার আছে। এই ভোটারদের জোরজবরদস্তি করে বলবেন যে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও—তা হয় না। আওয়ামী লীগের এত ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা ঠিক হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ এটা করছে সেটা করছে। এটা সেটা তো অন্য অনেকেই করছে। হয়ত মাত্রাগত পার্থক্য আছে। একাত্তরে তো জামায়াতে ইসলামী গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল—সেই মানদণ্ডে তো জামায়াতকে এই নির্বাচন থেকে তো বাদ দিতে হয়। আমি মনে করি, এই ধরনের বাদ দেওয়া-দেওয়ি ভালো উদাহরণ নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফিরতে দেওয়া উচিত কিনা?

মাসুদ কামাল: আওয়ামী লীগ নেতারা যদি দেশে ফিরতে চায় অবশ্যই তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে—বিচার করতে হবে। বিচারের রায়ে যার যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য, সে সেটা পাক। মনে রাখতে হবে, ফেরার সুযোগ দেওয়া মানেই এই নয় যে আওয়ামী লীগের সেসব করাপ্ট ও নটোরিয়াস নেতারা ফিরলো। তেমনটি আমি মনে করি না। যারা অপরাধ, দুর্নীতি করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত। তারা কেন দেশ ছেড়ে পালালেন? নিশ্চয়ই তারা জানতেন যে অপরাধ করেছেন। এই কারণেই তারা পালিয়েছে। প্রত্যেকের এসব কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত, শাস্তি হওয়া উচিত। 

/এসআই/এসটি/এমওএফ/এম/
সম্পর্কিত
‘আমি তোমাদের জন্ম সনদে স্বাক্ষর করেছি, তোমরা আমা‌র মৃত্যু সনদে স্বাক্ষর করবে’
কলকাতায় হোটেলে আগুনবললো—মা কালই দেশে ফিরবো, রাতে একসঙ্গে শেষ পুরো পরিবার
নয়া দিল্লিতে প্রেস মিনিস্টার হওয়া সাইদুর রহমানকে আরএফইডি’র সম্মাননা
সর্বশেষ খবর
শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৭ উইকেট: অজিদের ২১০ রানে থামিয়ে দিলো বাংলাদেশ
শরীফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৭ উইকেট: অজিদের ২১০ রানে থামিয়ে দিলো বাংলাদেশ
শরীফুলের ৭ম শিকার হয়ে ৬৭ রানে আউট হলেন গ্রিন
শরীফুলের ৭ম শিকার হয়ে ৬৭ রানে আউট হলেন গ্রিন
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ পরিবারের চার জনের মরদেহ কুষ্টিয়ায় 
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ পরিবারের চার জনের মরদেহ কুষ্টিয়ায় 
টিভিতে আজকের খেলা (২৩ আগস্ট, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (২৩ আগস্ট, ২০২৬)
সর্বাধিক পঠিত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’