বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)'র কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সাবেক সদস্য, খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক কমরেড রতন সেনের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।
কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের আহ্বায়ক কার্তিক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট নাট্যজন সুমনা সোমার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কমরেড রতন সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কীরিটী রঞ্জন বিশ্বাস, সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, নিয়াজ ফাতেমা সিদ্দিকী শিল্পী, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, কৃষক নেতা জাহিদ হোসেন খান, সিপিবি সূত্রাপুর থানার সভাপতি বিকাশ সাহা, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, শ্রমিক নেতা মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, খেলাঘর নেতা হাসান তারেক, কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের সংগঠক চঞ্চল দাস, ঝর্ণা খানম, নাসরিন আক্তার, মাহমুদ হোসেন রনি, তারিকুজ্জামান, পুষ্পেন রায়, অপু সরকার প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে সভাপতি তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো-
১. অবিলম্বে কমরেড রতন সেন হত্যা মামলার ফাইল পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঝুলে থাকা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
২. প্রয়োজনে এই হত্যাকাণ্ডের ‘পুনঃতদন্ত’ বা জুডিশিয়াল তদন্ত করতে হবে, যাতে শুধু মাঠপর্যায়ের ভাড়াটে খুনিরাই নয়, বরং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ঘের ব্যবসায়ী মহলের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায়।
৩. কমরেড রতন সেনের স্মৃতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খুলনায় তার নামে স্মারক বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং তার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরনো পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর: সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণ কতদূর? 






