ঢাকার কল্যাণপুরে অভিযানের ঘটনায় নিহত ও আহত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার এজাহারটি পৌঁছালে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সাজ্জাদুর রহমান এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আলতাফ হোসেন বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারনামীয় ১০ আসামিরা হলেন- মো. রকিবুল হাসান ওরফে রিগান, ইকবাল, তামিম চৌধুরী, রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জোনায়েদ খান, বাদল ও আজাদুল ওরফে কবিরাজ।
জানা গেছে, তদন্তে প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আর যদি প্রমাণিত না হলে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্তকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সাজ্জাদ হোসেন।
এর আগে, বুধবার রাতে মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. শাহজাহান আলম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও অনেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৬(২)/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়, কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে তাজমঞ্জিল নামের ছয়তলা একটি ভবনের পাঁচতলায় অভিযানে গিয়ে সোমবার রাতে হামলার মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ভোরে সেখানে সোয়াতের বিশেষ অভিযানে নিহত হন সন্দেহভাজন নয় জঙ্গি। ওই বাসায় অস্ত্র, বিস্ফোরকের পাশাপাশি ‘আইএস’ এর পতাকা ও কালো পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জঙ্গিদের মধ্যে সেজাদ রউফ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ এই যুবক গুলশানে ক্যাফেতে হামলাকারী নিবরাস ইসলামের বন্ধু ছিলেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার রকিবুল পুলিশি পাহারায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
এদিকে, তাজমঞ্জিল নামের ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী মমতাজ পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটেদের নাম ঠিকানা যাচাই না করার অভিযোগ আনা হয়েছে মমতাজের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, তার স্বামী আতাহার উদ্দিন আহমেদ পলাতক রয়েছেন।
/এসআইটি/এমও/








