নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:১০আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৫৩


গাইবান্ধার ডিসি আবদুস সামাদ
সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দ ব্যবহার করায় আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। সোমবার সকালে তিনি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে হাজির হন। বেলা ১২টার কিছু পরে আদালত তাকে শুনবেন জানানোর পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনার কথা জানিয়েছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ নিয়ে করা রিটের শুনানিকালে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এ কারণে তাকে ৬ ডিসেম্বর তলব করেন হাইকোর্ট। গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবেদনে কেন এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে ১২ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে আদালতে হাজিরের আদেশ দেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
এর প্রেক্ষিতে আজ সোমবার আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেন জেলা প্রশাসক। আজ দুপুর ‍দুইটার পর এ বিষয়ে আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

এ বিষয়ে করা দু’টি রিট আবেদনের ওপর পৃথক রুলের শুনানি চলছে এ হাইকোর্ট বেঞ্চে।

গত ৬ ডিসেম্বর শুনানি শেষে সাঁওতালদের পক্ষে করা প্রথম মামলার বাদী স্বপন মূর্মূকেও একই দিন হাজির করতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেন আদালত।
সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথম রিটটি দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ২২ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হত্যা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরির্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের ম্যানেজারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

/ইউআই/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে