রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের আগে-পরে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয়রা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সন্ধ্যা থেকে রাত আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা দিয়ে কোনও যানবাহন প্রবেশ করতে দেননি শ্রমিকরা। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িও যেতে না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ।
গাবতলীর পাম্প এলাকায় হঠাৎই অচেতন হয়ে পড়েন এক নিবাসী। স্বজনরা রাত দু’টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিতে চাইলেও ব্যর্থ হয়ে রিকশায় করে হাসপাতালে নেন রোগীকে। অসহায় স্বজনরা জানান, যেকোনও আন্দোলনে অ্যম্বুলেন্স ছাড় পেলেও এখানে কোনও কিছুকেই ছাড় দিচ্ছেন না শ্রমিকেরা। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের দাবি, ‘সহিংসতায় অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিক নয়।’
বেশকিছু অ্যাম্বুলেন্সকেও শ্রমিকরা গাবতলীর রাস্তাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। শ্রমিকদের বাধার মুখে ঢাকায় প্রবেশের জন্য গাবতলী আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ফিরে যেতে হচ্ছে। আর ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব অ্যাম্বুলেন্স আসছে মাজার রোড পর্যন্ত, সেগুলোতে মাজার রোডের ডাইভার্সন রোড দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের কাঁচও ভাঙা দেখা গেছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি লাশবাহী মিনি ট্রাক হাজির হয় টেকনিক্যাল মোড়ে। গাড়িটি গাবতলীর রাস্তায় রওনা হলেও শ্রমিকরা গাড়িটিকে সোজা রাস্তায় ঢাকা থেকে বের হতে দেয়নি।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিচালক তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামির হোসেন নামের এক পরিবহন শ্রমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া সাভারের এক দুর্ঘটনার মামলায় মীর হোসেন মীরু নামে আরেক চালককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালত। এ কারণে সংক্ষুব্ধ হয়ে পরিবহন শ্রমিকরা সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তাদের গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার গাবতলী টার্মিনালে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদেরকে পরিবহন ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান রুস্তম আলী খান। রাতে যোগাযোগ করা হলে রুস্তম আলী খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকরা মাথায় যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশের দায় নিয়ে তারা গাড়ি চালাবেন কিভাবে? আইন বাতিল ও দুই চালকের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
আরও পড়ুন: গাবতলীতে শ্রমিকদের অবস্থান, পরিস্থিতি থমথমে
/ইউআই/এমএনএইচ/








