রাজধানীর শাহবাগে সিদ্দিকুরের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত দুই তদন্ত কমিটির পৃথক দুটি প্রতিবেদন বুধবার (৯ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন।
তদন্তকাজে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার সূত্রে আজ (মঙ্গলবার) এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। একারণে রমনা বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) রাতেই ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পেশ করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বিধি-বহির্ভূত অ্যাঙ্গেলে’ সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যিনি টিয়ারশেল মেরেছেন তিনি দাঙ্গা পুলিশের সদস্য। তার বিষয়ে সবকিছুই দুই তদন্ত রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওই সদস্য যার কমাণ্ডের আওতায় ছিলেন, সেই কর্মকর্তাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একইভাবে রমনা বিভাগ ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম)’র অন্তত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উচ্চতর কমিটি ও রমনা জোন পুলিশের তদন্ত কমিটি- এই দুই কমিটিতেই তদন্তকাজে যুক্ত ছিলেন রমনা বিভাগ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আশরাফুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। প্রকৃত তথ্য কমিশনার মহোদয় বুধবার প্রকাশ করবেন।’
এ বিষয়ে চানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রমনা জোনের গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ এখনও শেষ হয় নাই। আজ (মঙ্গলবার) আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে। শেষ হলেই তা ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে পেশ করা হবে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগেই জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও সংখ্যা নিয়ে যেভাবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা ঠিক নয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের দায়িত্বে অপেশাদারিত্বের কারণ খোঁজা হয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দায়িত্বপালনকালে যেভাবে টিয়ারশেল মারা উচিৎ ছিল সেইভাবে মারা হয়নি। সাধারণত ৪৫ ডিগ্রি কোনে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু টিয়ারশেল নিক্ষেপকারী পুলিশ সদস্য সরাসরি সিদ্দিকুরের মাথা বরাবর নিক্ষেপ করায় তার দুই চোখে আঘাত হানে।’
তদন্তকাজে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্রে দেখানো তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
রমনা বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কমিটির একজন সদস্য, সেন্ট্রাল কমিটিরও সদস্য হিসেবে তদন্তকাজে যুক্ত থাকায় এখনও প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়নি।’
উল্লেখ্য, শাহবাগে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি কমিটিতে আছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মীর রেজাউল আলম, ডিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশরাফুল আলম।
অন্য কমিটিতে আছেন রমনা বিভাগের অতিারক্ত উপ-কমিশনার নাবিদ শৈবাল, অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফুল আলম ও সহকারী কমিশনার (প্রশাসন) মো. ইকবাল।
গত ২০ জুলাই পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে চোখ নষ্ট হয় রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুরের। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেদিনের ঘটনা এবং তাতে পুলিশের দায় খুঁজতে দুটি তদন্ত কমিটি করে ডিএমপি। একটি কমিটি সোমবার ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অন্য কমিটির প্রতিবেদন আজ রাতেই পেশ করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের ব্রিফিং প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্যার আগামীকাল আসবেন।’
/এসএমএন/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
‘শাহবাগে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে আহত সিদ্দিকুরের চোখ ফেটে গেছে'







