আন্দোলনের পর দেশের পাঁচ হাজার ২৪২টি নন-এমপিও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে এসব বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার শিক্ষককে পর্যায়ক্রমে এমপিও দেওয়া শুরু হবে। এছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেগুলোর নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিও হয়নি তাদেরও এর আওতায় আনা শুরু হবে একই সময় থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করেন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে ৫ জানুয়ারি তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। এরপরই এমপিও দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে এমপিও দেওয়া শুরু হবে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। আশা করি বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে এমপিও দেওয়ার ঘোষণা দিতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। এরপর অক্টোবর থেকেই এমপিও দেওয়া শুরু করতে পারবে সরকার।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিও পেতে হলে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতার শর্ত পূরণ, সরকার অনুমোদিত জনবল কাঠামো, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, কাম্য ফল এবং অনুমোদিত গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি থাকতে হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘এমপিও পাওয়ার শর্ত পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে প্রতিষ্ঠানকে। আমরা যাচাই-বাছাই করে চারটি গ্রেডে ভাগ করবো। প্রথম গ্রেড থেকে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে এমপিও দেবো। পরে শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে স্বীকৃত সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢালাওভাবে এমপিও দেওয়ার সুযোগ নেই। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে একসঙ্গে এমপিও দিতে বছরে আনুমানিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা সবাই পর্যায়ক্রমে এমপিও পাবেন।’
অনুমোদন পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ শিক্ষক গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। ৩১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। আন্দোলন চলাকালে ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিও দেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার ২৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার। এছাড়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির নন-এমপিও শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক প্রায় ৯০ হাজার।
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিও পাঁচ হাজার ২৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার। এছাড়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিও পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষকরা এমপিও এর বাইরে রয়েছেন। দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। তারপরও আমরা শিক্ষার মান ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’








