বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার সাজা বৃদ্ধি এবং দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার সংশোধন চেয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ পাঁচজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।
আইনমন্ত্রী ছাড়া বাকিরা হলেন আইন মন্ত্রণালয় সচিব, সংসদ সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সংসদের (আইন) সহকারী সচিব।
ফাইজুল্লাহ ফয়েজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা সংশোধন চেয়ে সংশ্লিষ্টদের একটি নোটিশ পাঠিয়েছি। কেননা, দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারাটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ধারায় নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য করা হয়েছে। এই ধারায় নারীকে অভিযুক্ত করা যাবে না বলে একপক্ষীয় নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দণ্ডবিধি আইনে পরকীয়া বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনও নারী যদি তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয় সেক্ষেত্রে তৃতীয় পুরুষটিকে অভিযুক্ত করা যাবে, কিন্তু ওই নারীকে অভিযুক্ত করা যাবে না। আবার তৃতীয় পুরুষের বিরুদ্ধে নারীর স্বামী ছাড়া আর কেউ অভিযোগ তুলতে পারবে না বলেও আইনে উল্লেখ আছে, যা বৈষম্যমূলক। তাই আমি আইনের ধারাটি সংশোধন চেয়ে বলেছি, কোনও ব্যক্তি যদি নিজের স্ত্রী বা স্বামী ছাড়া তৃতীয় কোনও ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া ও যৌন সম্পৃক্ত হয়, তাহলে যেন উভয় ব্যক্তি দোষী হয়।’
ফাইজুল্লাহ ফয়েজ বলেন, ‘পরকীয়ার জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি এবং তা থেকে অনেক অপরাধের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নোটিশে পরকীয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৭ বছর করার দাবি জানিয়েছি।’
তিনি জানান, নোটিশের জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদের কোনও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কোনও সুনির্দিষ্ট জবাব না পেলে হাইকোর্টে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার সংশোধন চেয়ে রিট দায়ের করা হবে।







