এরশাদ রংপুরের উন্নয়ন করেননি, আ.লীগের দালালি করেছেন: মির্জা ফখরুল

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:২৪, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

রংপুরে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার একদিকে ক্যাসিনোর নামে জুয়া খেলে শত শত কোটি টাকা লুট করছে অন্যদিকে জনগণের অধিকার হরণ করছে। আবার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সব কিছু দখল করে নিয়েছে। ফলে এ সরকারের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। 

তিনি আজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বরে রংপুর-৩ (সদর ) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের সমর্থনে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর সদর (রংপুর-৩) আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালে এই এলাকার উন্নয়ন করেননি বরং আওয়ামী লীগের দালালি করেছেন।  বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে।

রংপুরে ‍বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের প্রচারসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছি আমাদের মা গণতন্ত্রের মাতা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আটকে রেখে দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। তারা দেশে একদলীয় সরকার কায়েম করার জন্য এসব করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ আসনে দীর্ঘদিন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি থাকলেও রংপুরের তেমন কোনও উন্নয়ন করেননি। বরং তিনি এমপি হয়ে আওয়ামী লীগের দালালি করেছেন। সে কারণে আমরা রংপুরের কৃতি সন্তান বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মশিয়ার রহমান যাদু মিয়ার কন্যা রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছি। তাকে ভোট দিয়ে রংপুরের উন্নয়ন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।

পরে  বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে সবাইকে এ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরপর শাপলা চত্বরেও খোলা ট্রাকে আয়োজিত একটি নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।

সভা শেষে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ট্রাকের ঘটা দুর্ঘটনায় বিএনপি মহাসচিবের বাম হাত কেটে যায়। সেইসঙ্গে তার ব্লাড সুগার নেমে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শামসুজ্জামান শামু।

অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, মহাসচিবের হাত একটু কেটে যাওয়ায় এবং সুগার নেমে যাওয়ায় অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আধাঘণ্টা অবস্থান করার পর তিনি গাড়িতে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রংপুর ত্যাগ করেন। সন্ধা ৭ টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফেরেন।

এদিকে পথসভা গুলোতে  আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল , শ্যামা ওয়াহেদসহ অন্য নেতারা।

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ