‘৪০০ টাকার বার্গার খে‌তে পা‌রি, ২৪০ টাকার পেঁয়াজ মে‌নে নি‌তে পা‌রি না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৪২, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৪, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নারী গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা রোধ শীর্ষক আলোচনা সভাজাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার বলেছেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশে এসে ২৪০ টাকার পেঁয়াজ খেতে হচ্ছে। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ২৪০ টাকা আমরা মেনে নিতে রাজি না। আবার দেখা যাচ্ছে, ৪০০ টাকা দি‌য়ে এক‌টি বার্গার খেয়ে ফেলছি। সমস্যাটা হলো−একটা মানসিক জায়গা আছে, তাই বলে আমি পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পক্ষে না।’
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নারী গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা রোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পেঁয়াজের দাম কমাতে হবে। এর পেছনে যে সিন্ডিকেট দায়ী, তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। মানুষকে জিম্মি করে যারা ব্যবসা করতে চায়, তাদের বরদাশত করা যাবে না। সেজন্য আমরা মনে করি, আজকে উন্নত হচ্ছি, এর সঙ্গে আমাদের মানসিক বৈকল্য থেকে মুক্ত হতে হবে।’
শিরিন আক্তার আরও বলেন, ‘উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে গৃহকর্মীরা সারাদিন কাজ করেন, কাজ শেষে মালিক ও গৃহকর্মী একই টেবিলে বসে খায়। এটা হচ্ছে এক প্রকার সংস্কৃতি।’
নারী গৃহশ্রমিক নেত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নারী শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলে তারা বাসাবাড়িতে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন এবং তাদের নিয়ে যে আইন তৈরি করার চেষ্টা চলছে, সেগুলো বুঝতে পারবেন। তবে তার আগে আরেকটি কাজ করতে হবে, প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যদি একটি করে অফিস থাকে, তাহলে এ নারী শ্রমিকরা সেখানে গিয়ে তাদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা খুব সহজেই বলতে পারবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরে অক্সফামের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার তারেক আজিজ বলেন, গৃহকর্মকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিষ্ঠানে কাজ ও শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সমাজে গৃহকর্মের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে হবে। গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির যথাযথ বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হলেও আইনি সহায়তা পেতে যথাযথ ব্যবস্থা এবং আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা বাড়াতে হবে। গৃহকর্মীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, কাজের নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক একদিনের ছুটি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের প্রতি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অক্সফামের প্রকল্প সমন্বয়কারী গীতা রানী অধিকারী, নারী মৈত্রী’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, জাতীয় গৃহশ্রমিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী আবুল হোসেন প্রমুখ।

/এসও/ওআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ