তিন দিনেও রুম্পার মৃত্যু-রহস্যের কিনারা হয়নি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৪৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাবেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর শান্তিবাগের বাসা থেকে বের হন সন্ধ্যা ৫টার দিকে। আর রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তিনটি ভবনের যেকোনও একটি থেকে পড়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে রুম্পাকে কেউ নিচে ফেলে হত্যা করেছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তিন দিনেও এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
রমনা থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিমও এই ঘটনা তদন্ত করছে। রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে, এমন সন্দেহ থেকে হত্যা মামলা করা হলেও সুস্পষ্টভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। আরও সময় প্রয়োজন। বিভিন্ন সিটিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, আশপাশের তিনটি ভবনের মধ্যে চারতলা ভবনে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে একজন মেয়ে প্রবেশ করছে। কিন্তু ফুটেজটি সাদাকালো ও অস্পষ্ট। যেকারণে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ফুটেজে যাকে দেখা গেছে, সেই মেয়েটি রুম্পা।’
রুম্পার মোবাইলের কললিস্টও যাচাই-বাছাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের একজন জানান, একটি নম্বরে অনেকবার কথা বলেছেন রুম্পা। সেই নম্বরটি কার তা তারা ইতোমধ্যে জেনেছেন। প্রয়োজনে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রমনা থানা সূত্রে জানা গেছে, নম্বরটি আব্দুল রহমান সৈকত নামে এক যুবকের। তার সঙ্গে রুম্পার সম্পর্ক ছিল, যা চলতি বছরের শুরুতে হয়। তবে সৈকতের অনাগ্রহের কারণে মার্চের শেষ দিকে সম্পর্কটা ভেঙে যায়। এরপর থেকে রুম্পা বহুবার সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাকে সম্পর্কে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সৈকত বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। একাধিক গণমাধ্যমেও এই দাবি করেছেন সৈকত। তবে শনিবার সকাল থেকে তার ব্যবহৃত ফোনটি চালু থাকলেও তিনি কল রিসিভ করছেন না। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তাকেও খোঁজা হচ্ছে।
ডিবি দক্ষিণ বিভাগের রমনা জোনাল টিমের সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছি। অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও বলার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।’
তবে রুম্পার পরিবার ও তার সহপাঠীরা বলছেন, রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারেন না। এ ধরনের মেয়ে তিনি ছিলেন না। তিনি সবার সঙ্গে মিশতেন ও সবসময় হাসখুশি থাকতেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
রুম্পার বাবা হবিগঞ্জ চৌধুরীবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, ‘অনেকে বলছে আমার মেয়ে কেন মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিস রেখে সন্ধ্যায় বের হয়েছিল। কিছুদিন আগে বেইলি রোড থেকে রুম্পার একটি ফোন ছিনতাই হয়। এরপর আমিই তাকে সন্ধ্যার পর বের হলে ফোন সঙ্গে না নিতে বলেছিলাম। ওই দিনও হয়তো তা-ই করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আশা করি পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত কারণ বের করবে।’
এদিকে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী ও ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের সামনেই এ বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাখিল খন্দকার নিশান বলেন, ‘ও সব সময় হাসিখুশি থাকা মানুষ। সবার সঙ্গে মিশতো। তার মধ্যে আমরা কোনও হতাশা দেখিনি। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
রুম্পার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন একই থানার এসআই আবুল খায়ের। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও মামলাটির ছায়া তদন্ত করছে।

/আরজে/এইচআই/

লাইভ

টপ