‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল ফজলে হাসান আবেদের দর্শন’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:২৭, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩০, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

দদদ‘বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সদ্যপ্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ শিশুদের শিক্ষার জন্য বিস্তর কাজ করে গেছেন। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল তার দর্শন।’ শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘শিক্ষার অগ্রযাত্রায় স্যার আবেদের ভূমিকা’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনরা। সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন।

80289344_547374202777189_6271892643010052096_nবৈঠকিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধের পর মানুষ কত প্রতিকূলতার মধ্যে ছিল। মানুষের ভেতর থেকে প্রতিকূলতা দূর করতে হবে– এটাই ছিল তার প্রথম মন্ত্র। আমি মনে করি, আবেদ ভাই কতকগুলো মন্ত্রের সমষ্টি। এই মন্ত্রগুলোকে তিনি পবিত্র জ্ঞান করতেন। “হাঁটু ভেঙে পড়ে থাকা যাবে না”– সেই দর্শন তার ছিল।’

শিশুদের শিক্ষায় স্যার আবেদের অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  ‘হাওর এবং চরাঞ্চলে অনেক প্রতিকূলতা থাকে বলে অনেক শিশু শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। আবেদ ভাই সেইসব ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার কথা ভাবতেন। তার শিক্ষার সবচেয়ে বড় মন্ত্র ছিল, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা হতে হবে। ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ-তরুণ প্রত্যেকের অধিকার আছে শিক্ষার।’

80105528_541679350013864_7215333070579171328_nবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলতেন, “আমরা আপস করবো না। আমরা যদি গণিত করি, তাহলে গণিতের মর্ম বুঝতে হবে। বিজ্ঞান করলে বিজ্ঞানের মর্মে যেতে হবে।” শিশুরা সুবিধাবঞ্চিত– এ ধরনের কথা বাদ দিয়ে তাদের যে অসাধারণ ক্ষমতা আছে সেটা নিয়ে কথা বলতেন তিনি। ব্র্যাক স্কুলকে আমি নানাভাবে দেখেছি। ব্র্যাক স্কুল মানেই শুধু একটি স্কুল না, এটা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ একটি ব্যাপার। সেখানে যে শিক্ষক তাকেও একজন দার্শনিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। দার্শনিক হিসেবেই শিশুদের সঙ্গে টানা পাঁচ বছর একসঙ্গে থাকা। সুতরাং এত সুন্দর একটি অন্তরঙ্গ বিষয়কে প্রাথমিক বিদ্যালয় বললে আমার মতে অবিচার করা হবে। এটা আসল শিক্ষা, যেটা আবেদ ভাই সারাবিশ্ব থেকে মৌমাছির মতো সংগ্রহ করে এনেছেন। এটাই তার দর্শন।’      

80233390_2521354824643849_3384293534709317632_nব্র্যাক এডুকেশনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার আবেদ একজন উঁচুমাত্রার শিক্ষাবিদ। তার স্থাপত্যবিদ্যার ছাপ ব্র্যাকের সবগুলো প্রোগ্রামে পাওয়া যায়। আমরা যেহেতু শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি, সেই ছাপগুলো আমাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি মনে করতেন, প্রথমে কেউ যদি বড় পরিবর্তন করতে চায় তাহলে সেই জায়গাটি হচ্ছে শিক্ষা– এটা তার দর্শন। এ কারণে “সুবিধাবঞ্চিত শিশু” শব্দটি শুনতে পারতেন না। শিক্ষাকে তিনি মনে করতেন একটি গবেষণার জায়গা।’

80852501_2428911574104387_1076372469993963520_nব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনালের নির্বাহী পরিচালক ইরাম মারিয়াম বলেন, ‘আবেদ ভাই শিক্ষায় সমতা এবং মানোন্নয়ন নিয়ে অনেক বেশি ভাবতেন। তিনি ভাবতেন, শিক্ষাবঞ্চিত কিংবা মানসম্পন্ন শিক্ষা পৌঁছাচ্ছে না, এ ধরনের শিশুদের কাছে কীভাবে এমন একটা শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া যায় যাতে সচ্ছল ব্যক্তির সমকক্ষ হতে পারে সে। শিক্ষার কাছে পৌঁছাতে পারছে না এবং সচ্ছল ব্যক্তি উভয়কেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিল তার দর্শন। সেজন্য তিনি আমাদের বলতেন, “শিক্ষার মান আর শিক্ষার সমতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”  ’

80889645_621195325284336_117025549439729664_nব্র্যাকের প্রিভেন্টিং ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইম্যান ইনিশিয়েটিভের পরিচালক নবনীতা চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিরাট সৌভাগ্য আমি আবেদ ভাইয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি ছাড়াও তার সঙ্গে সামনাসামনি আলাপে মুগ্ধ হয়েছেন সবাই। সাংবাদিক হিসেবেও ব্র্যাক আমাদের ছুঁয়ে গেছে নানাভাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অধিকার, মানবাধিকার, ক্ষুদ্রঋণসহ নানা জায়গার কাজে, ব্র্যাকের যে অবদান-উদ্ভাবন, সেটা আমরা দীর্ঘ সময় অনুসরণ করেছি। শিক্ষাকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, তিনি মানুষের সক্ষমতায় ভীষণ বিশ্বাস করতেন।’

80776670_2344732562298637_6261657473950679040_n

 

/এসও/এমএএ/

লাইভ

টপ