সাড়া ফেলেছে ‘কৃষকের অ্যাপ’

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ০৯:৩২, জানুয়ারি ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪০, জানুয়ারি ০৭, ২০২০

কৃষকের অ্যাপ

সাড়া ফেলেছে ‘কৃষকের অ্যাপ’। গত বছরের নভেম্বরে এই অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও ধান বিক্রির জন্য আবেদন নিতে শুরু করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদফতর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের ১৬ জেলার ১৬টি উপজেলায় এই পাইলট প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তারা বলছেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এবারের আমন মৌসুমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ৭ নভেম্বর অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধন করানোর জন্য খাদ্য অধিদফতর থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কৃষি কর্মকর্তাদের একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনায় এ বিষয়ে কৃষকদের সহায়তা করতে বলা হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল গত ১২ ডিসেম্বর এবং ধান বিক্রির আবেদনের শেষ সময় ছিল ২০ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জন কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ধান বিক্রির আবেদন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮৩ জন। পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এ সংখ্যাকে সন্তোষজনক মনে করছেন তারা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যম অ্যাপ। কৃষক যাতে ঘরে বসে সহজে ধান বিক্রির জন্য আবেদন করতে পারেন, সেজন্যই এটি চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কারিগরি সহযোগিতায় অ্যাপটি তৈরি করা হয়। কৃষক আবেদন করার পর আবেদনটি কী অবস্থায় আছে, সেটাও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ধান বা খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কৃষকের অংশ নিবিড়ভাবে কাজ করে। প্রথমে তারা নিবন্ধনের আবেদন করবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিবন্ধন আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে সংশ্লিষ্ট কৃষক ধান বিক্রির জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পর কৃষক নির্বাচনি লটারি অনুষ্ঠিত হয়। সেই লটারিতে নির্বাচিত হলে কৃষক ধান জমা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ আদেশ পাবেন। বরাদ্দ আদেশে উল্লেখ থাকে কী পরিমাণ ধান কোন এলএসডিতে (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) সরবরাহ করতে হবে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুমোদনের পর কৃষক ব্যাংক থেকে তার টাকা বুঝে নেবেন। আগে কৃষককে ধান বিক্রি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হতো। আর এখন কৃষক ঘরে বসেই সেসব তথ্য পেয়ে যাবেন। এছাড়াও এটি ব্যবহার করে কৃষক তার মতামত বা অভিযোগ জানাতে পারবেন।

আমন মৌসুমে পাইলট কার্যক্রম হিসেবে ১৬ জেলার মধ্যে নওগাঁ সদর, বগুড়া সদর, রংপুর সদর, দিনাজপুর সদর, ঝিনাইদহ সদর, যশোর সদর, বরিশাল সদর, ভোলা সদর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, হবিগঞ্জ সদর, মৌলভীবাজার সদর, ময়মনসিংহ সদর, জামালপুর সদর, সাভার ও গাজীপুর সদর উপজেলার কৃষকদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতা আর অল্প সময়ের মধ্যে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, এটা আশাতীত। মাত্র ১৬ জেলার ১৬ উপজেলা থেকেই আমরা এত সাড়া পেয়েছি!’ আগামীতে এই পদ্ধতি সারাদেশে চালু করা হবে বলে জানান তিনি

 

/এইচআই/আপ-এপিএইচ/

লাইভ

টপ