‘মাতৃমৃত্যু’ রোধে সব হাসপাতালেই বিশেষ ইউনিট প্রয়োজন

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৩:৫৯, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১০, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

মাতৃত্বকাল (ছবি: ইন্টারনেট থেকে)প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণকে মাতৃমৃত্যুর প্রথম কারণ দেখছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, দুই নম্বর কারণ হলো খিঁচুনি। তারা বলছেন, হাসপাতালগুলোয় রক্তক্ষরণ কমানো গেলেও খিঁচুনিতে আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত হারে কমানো যায় না। মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য দেশের হাসপাতালগুলোয় অবস্ট্রেটিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বেড ছাড়া দেশের কোনও হাসপাতালেই এই সুবিধা নেই। তাই প্রতিরোধযোগ্য হওয়ার পরও রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর মতে, একজন মায়ের গর্ভাবস্থা, প্রসব অবস্থা ও প্রসব পরবর্তী ৪২ দিনের মধ্যে মারা গেলে ওই ঘটনাকে ‘মাতৃমৃত্যু’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংস্থাটির বলছে, ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ৩ লাখ ৩ হাজার মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এদিকে, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর সর্বশেষ জরিপে জানিয়েছে, দেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৬। প্রসব-পরবর্তী  জটিলতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি বলেও জরিপে উল্লেখ কর হয়েছে।

জানতে চাইলে অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ হাসপাতাল (ওজিএসবি)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘মাতৃমৃত্যুর প্রথম কারণ প্রসব-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। দ্বিতীয়ত কারণ, খিঁচুনি। রক্তক্ষরণে মাত্যৃমৃত্যুর হার কমানো গেলেও  খিঁচুনির কারণে মাতৃমৃত্যুর হার কমানো যাচ্ছে না। আর এ জন্যই অবস্টেট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট দরকার। কিন্তু উদ্বেগের কথা হলো, দেশে কেবল ঢামেক হাসপাতালে একটি বেড আছে। আর কোথাও এই ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।’

ওজিএসবির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজগুলো, মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সব জায়গায় আলোচনা করে যাচ্ছি।’  তিনি বলেন, ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হলে  মাতৃমৃত্যুর হার কমানো যাবে।’

ডা. সামিনা চৌধুরী আরও বলেন, ‘এেই ধরনের রোগীর  ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস আমাদের নেই। তবে এই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করলেই চলবে না, এর জন্য প্রশিক্ষিত জনবলও দরকার হবে।’

জানতে চাইলে ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, ‘কেবল একটি করে বেড দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এজন্য পৃথক একটি ইউনিট দরকার হবে। লাগবে প্রশিক্ষিত জনশক্তিও।’

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পৃথক আইসিইউ করতে হলে প্রথমেই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জনশক্তি। তবে, এখনই তা করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যেসব  হাসপাতালগুলোতে  নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছে, সেসব হাসপাতালে অতিরিক্ত বেড দিলে বর্তমানে যারা কাজ করছেন, তারাই কাজ করতে পারবেন।’ চলতি বছরেই আইসিইউর বেডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করবেন বলেও তিনি জানান।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ