অপহরণের দশ ঘণ্টা পর শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৫১, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৮, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

অপহরণকারী-চক্রের-সদস্যঅপহরণের দশ ঘণ্টা পর গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শাহরিয়ার ইসলাম আরাফ নামে এক বছর চার মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এ সময় অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে‌ র‌্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার (ক্রাইম প্রিভেশন স্পেশাল কোম্পানি) লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য জানান।

রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার বলেন, ‘ভাড়াটিয়া সেজে অপহরণকারী চক্রের সদস্য জেরিন ইশরাত জুলি ও তার  বোন তারিন নুশরাত তুলি গত ১৮ জানুয়ারি সকালে গাজীপুরের শরিফপুর এলাকায় মো. আশরাফ আলীর বাসায় যায়। সেখানে তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে বাসাভাড়ার বিষয়ে আলোচনা করে। এ সময়  কৌশলে তাদের সঙ্গে থাকা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় জুস ও শিঙাড়ায়। বাড়িওয়ালা আশরাফ আলীসহ তার পরিবারের সবাই ওই জুস ও শিঙাড়া খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জেরিন ও তারিন। এ সময় তারা বাসায় থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।’

লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এরপর ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫টার সময় মোবাইলফোনে শিশুটির মায়ের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।  টাকা না দিলে শিশুর কিডনি বিক্রি করার পর হত্যার হুমকিও দেয় চক্রটি। এ বিষয়ে গাজীপুর  গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় পরিবার পক্ষ থেকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে গাজীপুর গাছা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় বিকাশে টাকা লেনদেনের সময় অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য—জেরিন ইশরাত জুলি ও তারিন নুশরাত তুলিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইনবোর্ড এলাকার একটি ফ্ল্যাটের পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে র‌্যাব। একইসঙ্গে  চক্রটির দুই সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি স্বর্ণের দুল, ৪টি মোবাইলফোন সেট ও নগদ ১ হাজার ৮৭০টাকা জব্দ করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা পেশায় গার্মেন্টসকর্মী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু শাহরিয়ার ইসলামকে অপহরণ করেছিল।’ তারা খোঁজ-খবর নিয়ে ধনী পরিবারের শিশুদেরই অপহরণ করে বলেও তিনি জানান।

 

/এসজেএ/এনএল/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ