সান্ধ্যকোর্স নিয়ে ঢাবির অ্যাকাডেমিক সভায় চলছে ‘তর্ক-বিতর্ক’

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৩, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৯, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশেষ অ্যাকাডেমিক সভা চলছে। সেখানে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় না যাওয়ার পক্ষে সর্ব সম্মতিক্রমে মত দিয়েছেন শিক্ষকরা। কিন্তু সান্ধ্যকোর্স নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চলছে ‘তর্ক-বিতর্ক’।

শিক্ষকরা সান্ধ্যকোর্স বন্ধ রাখার বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছেন। বাণিজ্য অনুষদের বেশিরভাগ শিক্ষক সান্ধ্যকোর্স বন্ধ না রাখার কথা বলেছেন। তারা নীতিমালা তৈরি করে সংস্কারের কথাও বলছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় সভা শুরু হয়।এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সভার প্রথমভাগ শেষ হয়ে দ্বিতীয়ভাগ চলছে।

এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি দেখা গেছে। জানা গেছে, সান্ধ্যকোর্স চালু রাখতে সোচ্চার রয়েছেন বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষকরা৷ এজন্য তাদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি রয়েছে।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সান্ধ্যকোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সুপারিশ করে সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটি৷  বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষক ও আরও  কয়েকটি বিভাগের শিক্ষকরা ওই প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন বলে সভা সূত্রে জানা যায়৷

সান্ধ্যকোর্স যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.তোফায়েল আহমেদ সভার বিরতিতে বের হয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সান্ধ্যকোর্সের বিপক্ষে বলতে গেলেই অনেকে ‘শেইম শেইম’ করে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু দিনের বেলা তাদের কোনোরকম শিক্ষা দিয়ে, রাতে বেলা টাকার জন্য বাইরের শিক্ষার্থীদের ভালো সেবা দিতে রাজি তারা। আমরা কমিটি সভার শেষে যুক্তি উপস্থাপন করবো৷’

সভায় ব্যবসা শিক্ষা অনুষদভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষ্যাধক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন সান্ধ্যকোর্স চালু রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন,‘এই সান্ধ্যকোর্স থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর ৫০ কোটি পাচ্ছে, যা  বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ে ব্যয় হচ্ছে৷’

একই বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘শিক্ষকতাকে আমরা মহান পেশা হিসেবে নিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়বদ্ধতা নিয়ে আমরা কাজ করছি৷ সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম নিয়ে এখন কী হয়ে গেলো যে, এটি বন্ধ করতে হবে। কেন বারবার গণমাধ্যমে এটিকে ‘বাণিজ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সান্ধ্যকোর্সে আমরা মান সম্মত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি৷ কেন আমাদের তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বারবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে৷ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আমাদের গবেষণা নেই৷ কিন্তু আমাদের অনেক মান সম্মত গবেষণা রয়েছে৷ আমরা রাত দিন পরিশ্র করছি, সংসারও ঠিক রাখছি।’

ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর চন্দ্র নাথ পোদ্দার সান্ধ্যকোর্স চালু রাখার পক্ষে বক্তব্য উপস্থান করে বলেন, ‘যুগের প্রয়োজনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু থাকতে হবে। তবে সব প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভেবে সংস্কার করে চালু রাখা যায়।’

টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সান্ধকোর্স বন্ধের বিষয়টি উইথ-ড্রো করে নেওয়া হোক। তখন উপাচার্য তাকে শব্দ ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেখানে কোথাও বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ নেই৷ তাই শব্দ ব্যবহারে আরও সচেতন হবেন৷'

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড.এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘সান্ধ্যকোর্স সংস্কারের বিষয়টি আসতে পারে৷ বন্ধ করা ঠিক হবে না৷ মান সম্মত শিক্ষার জন্য যদি সংস্কার করা প্রয়োজন তাহলে তা করা হোক৷'

আরও পড়ুন:

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ