নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারে ছাত্র অধিকার পরিষদের ৮ দাবি

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৩০, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৯, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০




 নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। চাকরির আবেদন ফি কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়াসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিভিন্ন সরকার তা বাস্তবায়ন করে না বলে অভিযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি যে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বেকারত্ম আমাদের সমাজে সংক্রামকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা খুব হতাশ হয়ে দেখি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো নানারকম প্রতিশ্রুতি দেয়। যার বাস্তবায়ন আর হয় না। আজ আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিনবার ক্ষমতায়। তারা বলেছিল প্রত্যেক ঘরে চাকরি দেবে। আমরা আপনাদের বলতে চাই, কোথায় আপনাদের সেই প্রতিশ্রুতি? আপনারা যদি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারেন, তাহলে ছাত্র সমাজ তা ঠিকই আদায় করে নেবে।’

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, ‘যেখানে চাকরি পাওয়া বেকারদের অধিকার, সেখানে নীতি নির্ধারকরা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করে রেখেছেন। যাতে মনে হয় চাকরি চাওয়াটা আমাদের জন্য পাপ। চাকরির জন্য রাষ্ট্র আমাদের পকেট খালি করছে। আমাদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে নীতি নির্ধারকরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকাচ্ছেন। অথচ তাদের উচিত ছিল সুন্দর একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বেকারদের হয়রানি থেকে রক্ষা করা। শুধু তাই নয়, চাকরির জন্য ঢাকায় এসে পরীক্ষা দেওয়ার মতো ভোগান্তি সৃষ্টি করে রেখেছেন তারা।’

কর্মসূচির সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মো. তারেক বলেন, বেকারদের সমস্যার জায়গাটি কেউ বোঝার চেষ্টা কখনোই করেনি। করলে ১৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকা চাকরিতে আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ হয় না। বেকারদের কর্মসংস্থান করে দেওয়ার বদলে বেকারদেরকেই বাধ্য করছে নিয়মিত উচ্চ আবেদন ফি দিতে। এটা কখনোই মানা যায় না।’ বিদ্যমান নিয়োগ ব্যবস্থা বেকারদের স্বার্থের পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি এ প্রক্রিয়ার সংস্কার দাবি করেন।

মানববন্ধনে চাকরি প্রত্যাশী জান্নাতুল নাইম বলেন, ‘আজ দেশের যে পরিস্থিতি, এতে ঘর থেকেই বের হতেই আমাদের ভয় লাগে। সেখানে আমাদের একটি জেলা শহর কিংবা মফস্বল শহর থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। অনেক সময় আমরা মেয়েরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হই। ঢাকা এসে পরীক্ষা দিতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।’ তিনি জেলা বা বিভাগীয় শহরে সরকারি বিভিন্ন নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ‘জাতীয় নিয়োগ প্যানেল চাই’, ‘বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা চাই’, ‘নিয়োগের প্যাকেজ সাজিয়ে বাণিজ্য চলবে না’, ‘নিয়োগ ব্যবস্থা সংস্কার করো’, ‘বেকারদের পকেট কাটা মানি না’, ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করো’, ‘আবেদন ফি ১০০ টাকার বেশি নয়’, ‘ঘরে ঘরে চাকরি কই?’ স্লোগান রেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা এসময় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আট দফা দাবি জানান। এগুলো হলো ১. চাকরির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে ২. বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে হবে ৩. প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পৃথকভাবে প্রকাশ করতে হবে ৪. সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সব নিয়োগে পিএসসির আদলে জাতীয় নিয়োগ প্যানেল গঠন করতে হবে ৫.জাতীয় নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে ৬. তথ্য যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) নামে অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে ৭. বেকারত্ব নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে ৮. দেশে চাকরিরত বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা কমিয়ে দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, রাশেদ খান প্রমুখ।

/টিটি/

লাইভ

টপ
X