বিদায় বেলায় বই মেলায় ব্যস্ত লেখকরা

হাসনাত নাঈম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:৩৭আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:৫৬

মেলায় বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন লেখক আনিসুল হক দেখতে দেখতে একেবারে শেষ প্রান্তে চলে এসেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০। আর একদিন পরই এ বছরের মতো মেলা শেষ হতে যাচ্ছে। মাসব্যাপী লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের ভিড় ছিল মেলা প্রাঙ্গণে। তবে শেষ দিকে লেখদের আনাগোনা একটু বেশিই লক্ষ করা গেছে। লেখক সত্তার বিকাশে মেলাকে উৎসাহের একটি জায়গা হিসেবে দেখছেন লেখকরা। পরস্পরের সঙ্গে আড্ডা, নতুন লেখকদের সঙ্গে পরিচয় আর পাঠকদের সঙ্গে আলাপচারিতা—পুরো ফেব্রুয়ারিই যেন এক আনন্দের আবেশ নিয়ে আসে লেখকদের জন্য।


মেলা প্রাঙ্গণে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কথা হয় কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুজিববর্ষকে সামনে রেখে একটা সুন্দর বই মেলা করলাম আমরা। মেলায় বিক্রি খুব ভালো হয়েছে। এ সময় আমরা আনন্দের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করি। আমাদের একটা আড্ডার জায়গা এটা। পহেলা মার্চ থেকে বিকালে আমাদের আর কোনও কাজ থাকবে না। অপেক্ষায় থাকবো আগামী বছরের জন্য।’

মেলায় লেখকেরা কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘মেলায় সব সময় আসতে ভালো লাগে। আজ বেশ ভিড়। এত মানুষ আসতে দেখে ভালো লাগছে। বইমেলা আমাদের লেখকদের জন্য চমৎকার একটা জায়গা। এখানে পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। যতদিন এসেছি ভালো লেগেছে।’

কথা সাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, ‘আমরা যারা লেখালেখির সঙ্গে আছি—১১ মাস অপেক্ষা করি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য। ১১ মাস লেখক তার শিল্পকর্ম তৈরি করেন এবং সেটা এই ফেব্রুয়ারিতে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। একজন কথা সাহিত্যিককে সব সময় টেবিলেই বসে থাকতে হয়, বইয়ের সঙ্গে থাকতে হয়। তাই পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগটা হয় না। এই বই মেলাতে পাঠকের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে। শুধু ঢাকা থেকে নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও লেখকরা বই মেলায় আসেন। এই মেলাতেই লেখকদের সঙ্গে লেখকদের সখ্য গড়ে ওঠে। সাহিত্য-সংস্কৃতি-শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এটা লেখক সমাজের জন্য আনন্দদায়ক। লেখকদের জন্য বইমেলা একটা অনুপ্রেরণার জায়গা।’

মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও পাঠকরা কথা সাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ মাসে আমরা অনুপ্রেরণা পাই।’

কবি অলকা নন্দিতা বলেন, ‘বই মেলা উপলক্ষে অনেক দিনের পরিচিত বন্ধুদের দেখা পাই। মেলায় যারা বই বের করেন- ভবিষ্যতে করবেন তারাও আসেন। এ জন্যই এই মেলাকে মিলনমেলা বলছি। এই আড্ডা দেওয়ার জায়গাটা যখন ১১ মাসের জন্য হারিয়ে যায়, তখন একটু খারাপই লাগে।’

কবি সাখাওয়াত টিপু বলেন, ‘বই মেলার সময়টা আরেকটু ছোট হলে আনন্দটা আরও বেশি থাকতো। মূলত মেলায় বিক্রি হয় শেষ ১৫ দিন। এই সময়টাতে আমরা ব্যস্ত থাকি বেশি।’

 

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’
বিএনপি মিডিয়া সেলের একজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
বিএনপি মিডিয়া সেলের একজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
এক খবরেই ডিবি গিয়ে ঘিরে ফেললো বাড়ি, পরে জানলো ভুয়া তথ্য
এক খবরেই ডিবি গিয়ে ঘিরে ফেললো বাড়ি, পরে জানলো ভুয়া তথ্য
বুয়েটে দিনে ও রাতে পাঁচবার লোডশেডিং
বুয়েটে দিনে ও রাতে পাঁচবার লোডশেডিং
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
ব্রাজিল খেলবে বাংলাদেশে? আজ আসছে প্রতিনিধি দল
ব্রাজিল খেলবে বাংলাদেশে? আজ আসছে প্রতিনিধি দল
অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্যে মৃত্যুঞ্জয়ের মুখে হাসি
অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্যে মৃত্যুঞ্জয়ের মুখে হাসি