সুস্থ হলে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই: আইইডিসিআর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:১৪, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৭, মার্চ ৩১, ২০২০

 করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় সংক্রমিত হতে পারেন, এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, এটি একটি নতুন রোগ, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য বিশ্ব জানছে। সেদিক থেকে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত কোনও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই, যে একজন আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার পর আবার তিনি সংক্রমিত হয়েছেন। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের আমরা নজরদারিতে রাখছি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কোভিড-১৯ নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ( ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) ডা. হাবিবুর রহমান।

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, যারা সুস্থ হয়ে গেছেন, তাদের শরীরে এই মুহূর্তে কোনও সংক্রমণ নেই। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কারও ক্ষেত্রেই দেখা যায়নি যে, পুনরায় সেটা সংক্রমিত হয়। তবে অন্যান্য ভাইরাসের মতো এ ভাইরাসেরও ইমিউনিটি ডেভলপ করে যায় কিনা সে তথ্যটি আমাদের কাছে নেই, বিশ্বের কাছেই নেই-বলা ভলো।

তবে আক্রান্ত হয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদেরকে প্রথমে ১৪ দিন এবং একমাস পরে তাদেরকে আবারও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও সেটা ছুটি, তবে এটা বিশেষ ধরনের ছুটি। সামাজিকভাবে জনসমাগম বন্ধ করতে ও একজনকে অপরের থেকে পৃথক রাখার জন্য এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এসময় সরকারিভাবে যেসব আদেশ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মেনে চলার অনুরোধ করবো। আমরা কেউ এখন বাইরে যাবো না, যদি একান্ত আবশ্যক হয় তাহলে মাস্ক পরে যেতে হবে।

প্রতিরোধ কার্যক্রম হিসেবে তিনি কফ, থুতু যেখানে সেখানে না ফেলা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, হাঁচি-কাশির সময় বাহু ব্যবহার করা এবং কোভিড-১৯ আক্রান্ত কারও সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার কথা বলেন।

কেউ অসুস্থ হলে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়েও সিভিল সার্জন অফিসে হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সেখানেও যোগাযোগ করা যাবে। একইসঙ্গে নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা।

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যাদের মধ্যে করেনার উপস্থিতি রয়েছে বলে সন্দেহ করবো তাদের প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে চাই, যাতে করে কোনও আক্রান্ত ব্যক্তি সমাজে রয়ে না যান, যার কাছ থেকে সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তার চিকিৎসারও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই।

ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের কয়েকটি মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ হয়েছিল তারা করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, যাদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তাদের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে কারো দেহে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ নেই।

 

/জেএ/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ