করোনাভাইরাস: তাবলিগের একাংশের কার্যক্রম স্থগিত

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২০:৪১, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৮, এপ্রিল ০৫, ২০২০

করোনাভাইরাসসারাদেশে তাবলিগ জামাতের একাংশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মসজিদে থাকা তাবলিগের কর্মীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদবিরোধী অংশ। যদিও এতদিন তাবলিগের কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছিল। বাংলাদেশে তাবলিগের কাজে আসা পাঁচ শতাধিক বিদেশিও আছেন কাকরাইল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে।
মাওলানা সাদবিরোধী অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা জুবায়ের। তার একটি অডিও বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে তাবলিগের কর্মীদের কাছেও পাঠানো হচ্ছে।
অডিও বার্তায় মাওলানা জোবায়ের তাবলিগ কর্মীদের বলেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি, সে পরিস্থিতিতে ওলামাদের অনুসরণ করা চাই। আর যেসব পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে, সেগুলো যতক্ষণ শরিয়তের সীমার ভেতরে আছে, আমরা এটা অনুসরণ করবো। এমন কোনও পদক্ষেপ সরকার নেয়নি, যা ইসলামবিরোধী। ওলামায় কেরামও বলছেন মসজিদে ফরজ নামাজ পড়ে সুন্নত, নফল বাসায় গিয়ে পড়তে। সেই হিসেবে আমরা আমাদের দেশে মসজিদে আমল আপাতত বন্ধ রাখতে বলছি। জামাতগুলোকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলছি। আবার পরিস্থিতি ঠিক হলে সবাই সময় দেবে।’
অডিও বার্তার প্রসঙ্গে তাবলিগের সাথি জহির ইবনে মুসলিম বলেন, ‘মাওলানা জোবায়ের সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন। তিনি একটি অডিও বার্তা দিয়েছেন।’

এদিকে, সাদ অনুসারীরা যে যেই মসজিদে জামাতে আছেন, তাদের সেই মসজিদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৩ এপ্রিল তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা সারাদেশে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়—  আপনাদের জেলায় যেসব বিদেশি ও দেশি জামাতগুলো মেহনত করছে, যদি মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও বাধা আসে, তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তাদের বোঝাবেন সরকারের দিক নির্দেশনায়  জামাতগুলো নিজ জায়গায় অবস্থান করবে। তাই তারা যাতে মসজিদে অবস্থান করতে পারে, সেজন্য সহযোগিতার অনুরোধ করা।

এই অংশের নেতৃস্থানীয় মাওলানা আব্দুল্লাহ মনছুর বলেন, ‘সরকারি আইন কানুন এবং সরকার যেভাবে নিদের্শনা দেবে, আমরা সেভাবেই চলার জন্য বলেছি। স্থগিত শব্দের কে কী ব্যাখ্যা দেবে জানি না। আগে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ছিল, এখন চার দিন বেড়েছে। এখন আমরা বুঝতে পারছি না কোন ধরনের সিচুয়েশনের কারণে কী ধরনের হুকুম সরকারের পক্ষ থেকে আসবে। সরকারের নির্দেশনা আমাদের তাবলিগের সাথীরা যেন অনুসরণ করে, আমরা সেটা বলেছি। এর বাইরে কোনও নির্দেশনা আমাদের নেই।’

তিনি বলেন, ‘তাবলিগের ভিন্ন ধারার সাথী যারা আছেন, তারা তাদের জামাতকে ফিরে আসতে হুকুম দিয়েছে। সরকার যেহেতু লকডাউন করেছে, আরও  চার দিন সময় বাড়িয়েছে, তাই তাদের এ সিদ্ধান্ত সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হয়। এজন্য আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা আমাদের জামাতগুলোকে বলেছি, যে যেখানে আছে সেখানেই অবস্থান করতে। কোনও কোনও জামাত ৫ দিন, কোনও জামাত ২০ দিন পর্যন্ত একই মসজিদেই  আছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আদেশ না পেয়ে, তাদের ফিরে আসার ব্যবস্থা কী হবে, যানবাহন কোথায়, পুলিশ প্রশাসন তাদের আটকাবে।’

বিদেশি অতিথি

তাবলিগের কাজে অংশ নিতে বাংলাদেশে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক বিদেশি অবস্থান করছেন। এরমধ্যে সাদবিরোধী অংশে রয়েছে ৩৪১ জন। তাদের মধ্যে কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করছেন ১৯৮ জন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১৯ জন, মাস্তুরাত জামাতে ২৪ জন।  এরমধ্যে পটুয়াখালীতে  ভারতের ৭ জন,  যশোরে  ভারতের ৭ জন, বরগুনায় ভারতের ৮ জন, ঝিনাইদহেভারতের ৮ জন, ঢাকায় বনানীতে ইন্দোনেশিয়ার ৬ জন, গাজীপুরে ইন্দোনেশিয়ার ৬ জন, শেরপুরে ইন্দোনেশিয়ার ৭ জন, বরিশালে ভারতের ৮ জন, গাজীপুরে ভারতের ৯ জন, ভোলায় ভারতের ৮ জন, রংপুরে ভারতের ৪ জন,মৌলভীবাজারে ভারতের ৯ জন, সাতক্ষীরায় ভারতের ৮ জন, পিরোজপুরে ভারতের ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ভারতের ৭ জন রয়েছেন।

বিদেশি অতিথিদের নিয়ে চিন্তিত নন তাবলিগের মুরব্বিরা। সাদ অনুসারী তাবলিগ কার্যক্রমে বিদেশি অতিথিরা  এসেছেন গত ১৭ মার্চ। ফলে করোনার  লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও বিদেশি অতিথি করোনা আক্রান্ত হননি। বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছেন না। এ কারণে সাদ অনুসারী অতিথিদের কাকরাইল মসজিদের দক্ষিণ পাশের ভবনে অবস্থানের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে একটি চিঠিও দিয়েছেন শুরা সদস্য খান শাহাবুদ্দিন নাসিম। তিনি চিঠিতে লেখেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বিমান, রেল, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।  ফলে বিদেশি মেহমানদের একটু বেশি সময় বাংলাদেশে অবস্থান করতে  হতে পারে। কাকরাইল মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনও মসজিদে এত সংখ্যক বিদেশি মেহমান অবস্থানের ব্যবস্থা নেই। লকডাউন অবস্থায় বিদেশি মেহমানদের কাকরাইল মসজিদে অবস্থান যুক্তিযুক্ত। তাই কাকরাইল মসজিদের দক্ষিণ পাশের ভবন পুরোটা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

এদিকে সাদবিরোধী অংশে কত জন বিদেশি এখন বাংলাদেশে আছেন, তার  সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের অনুসারী কমপক্ষে ২০০ জন বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে প্রায় ১৩০ জনকে যাত্রাবাড়ীর মদিনা জামে মসজিদে রাখা হয়েছে। তাবলিগের সাথী জহির ইবনে মুসলিম বলেন,  ‘আমরা বর্তমানে কাকারাইল মসজিদে নেই। একইসঙ্গে সবাই বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি। ফলে সঠিক সংখ্যা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ 

 

/সিএ//এমআর/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ