মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ডিএসসিসি’র মশার ওষুধ সংকট নিয়ে আলোচনা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:০৬, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১০, মে ১৯, ২০২০

ডিএসসিসিঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ব্যবহার যোগ্য ফর্মূলেশনকৃত মশার ওষুধ সংকট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি অবহিত করেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, ওষুধ না থাকলে উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) সরবরাহ করবে। বৈঠকে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সোমবার সকালে ‘মশক নিধনের ওষুধ নেই ঢাকা দক্ষিণে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট সকলের নজরে আসলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, ওষুধ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে বৈঠকে জানতে চান স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম। পরে মন্ত্রী জানান, ওষুধ শূণ্যতা দেখা দিলে উত্তর সিটি করপোরেশন সরবরাহ করবে। তবে সংকট নিরসনে অতি দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মশার ওষুধ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা সর্বশেষ ২০ হাজার লিটার ওষুধ ডিএসসিসিকে দিয়েছি। সব সমস্যা সমাধান করে কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায় মন্ত্রী মহোদয় সে বিষয়ে সবাইকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।’ তবে এনিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, গত বছর ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবের পর বিদেশ থেকে সরাসরি ওষুধ আমদানির অনুমতি পায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরপর ভারত থেকে ম্যালাথিউন ৫% আমদানি করে ডিএসসিসি। কিন্তু আমদানিকৃত ওষুধটি সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এর সঙ্গে ৯৫ শতাংশ ডিজেল ও ২৫ থেকে ৫০ এমএল সাইট্রোনেলা মিশ্রিত করে নগরীতে ছিটাতে হয়। এজন্য ডিজেল এবং ওষুধের ফরমুলেশন সঠিক হতে হয়। আর এই কাজটি করার জন্য সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনও প্রযুক্তি নেই। এজন্য দ্বিতীয় পক্ষ দিয়ে কাজ করতে হয় নগর ভবনকে।

আর এই কাজটি সম্পন্ন করতে এবছরের ১ জানুয়ারি ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইটিং ওষুধের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার ওষুধের ফরমুলেশন করতে দর দেয় ১৭২ টাকা। কিন্তু গত বছর মানহীন ওষুধ সরবরাহের অভিযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মেসার্স ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটারের জন্য দর দেয় ১৮৫ টাকা। আর তৃতীয় অবস্থানে ছিল জাহিন কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটারের দর দেয় ১৯৫ টাকা। কিন্তু প্রথম অবস্থায় কোনও প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে ফের টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি।

পুনঃটেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় মেসার্স ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দর দেয় ১৫৫ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসার্স দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট দর দিয়েছে ১৬৩ টাকা। তৃতীয় অবস্থান থাকা মেসার্স নোকন লিমিটেড দর দেয় ১৮৩ টাকা। আর মেসার্স মার্শাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড চতুর্থ অবস্থান থেকে দর দেয় ১৮৯ টাকা।

এদিকে টেন্ডার কার্যক্রম চলতে থাকা অবস্থায় ওষুধ সংকটে পড়ে ডিএসসিসি। এ সময় সংকট মেটাতে প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়া মেসার্স মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে এক লাখ লিটার ওষুধ দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে অনুরোধ করে ডিএসসিসি। প্রথম দফায় প্রতিষ্ঠানটি ডিএসসিসিকে ৬০ হাজার লিটার ওষুধ ফরমুলেশন করে দেয়। তবে এই ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পাঠানো হলে তাতে মান উত্তীর্ণ হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বাকি ওষুধ আর নেওয়া হয়নি।

এদিকে দ্বিতীয় দফায় সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া মেসার্স ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য সংস্থার তৎকালীন দায়িত্বে থাকা মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের দফতরে পাঠানো হয়। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গত বছর ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগে তিনি সেই ফাইল সই করেননি বলে জানা গেছে।

/এসএস/জেজে/

লাইভ

টপ
X