আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৯:৩৬, মে ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৫, মে ২৬, ২০২০

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল সেমিনারকরোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য উত্তেরণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার (২২ মে) খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) ও গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের আয়োজনে ‘করোনায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: প্রসঙ্গ জাতীয় বাজেট ২০২০-২১’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তরা এই দাবি জানান।

এছাড়া, আসন্ন বাজেটে কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা, সরকারের খাদ্য মজুত করার সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, মহামারিতে সৃষ্ট নতুন দরিদ্র ও বেকারদের কৃষিতে পুনর্বাসনের জন্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ করা, অতি দরিদ্র মানুষের জন্য করোনা পরবর্তী ছয় মাস খাদ্য সহায়তা চালু রাখা, বাজেটে সারের ভর্তুকি কমিয়ে কৃষকদের নগদে ভর্তুকি দেওয়া, কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন গঠন করা, দুর্যোগকালীন কৃষি বাজার ও মূল্য ব্যবস্থাপনার জন্য বহু-মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সমন্বয় কমিটি গঠন করার কথা সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) এর সভাপতি ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলেনর সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘খানি বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ ও সঞ্চালনা করেন কৃষি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক।

প্রধান অতিথি নাজমানারা খানুম বলেন, ‘এই দুর্দিনে আমাদের একমাত্র আশ্বস্তের জায়গা ছিল কৃষি। প্রধানমন্ত্রীও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই খাতকে। এই মুহূর্তে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হলে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে হবে। কৃষকের নায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এটাও অনেকটা সত্যি, বিশেষ করে সবজিচাষিরা  ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে এরই মধ্যে বিআরটিসি ও ডাক বিভাগের গাড়িগুলোকে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো, ভবিষ্যতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্দেশ্যে ধান রোপণের পরপরই তালিকা তৈরি করে ফেলার। কারণ, ধান বিক্রির সময় আমরা কৃষকের তালিকা সঠিক সময়ে হাতে পাচ্ছি না।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি আমাদের বাজারব্যবস্থা, কৃষক ও ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের বড় একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। আমরা এখান থেকে অনেক শিক্ষা নিতে পারি।'

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, 'করোনাকালীন কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে যে ইনোভেশানগুলা এসেছে সেগুলোকে সম্প্রসারণ করতে হবে। সেইসঙ্গে সরকারকে প্রণোদনা দিয়ে অনলাইন কৃষি বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। সরকারকে কৃষি মার্কেটিংয়ে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।'

এছাড়া, আলোচকরা করোনা পরবর্তী সময়ে দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, ধান-চাল ক্রয়ে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করা, বর্গাচাষিদের ঋণ সুবিধায় আনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা, কৃষিযন্ত্র উৎ‌পাদনে দেশের তরুণদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখা এবং পারিবারিক কৃষির প্রসারে বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।

 

/এসও/আইএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ