২৬ বাংলাদেশি হত্যাকারী চক্রকে বিচারের আওতায় আনতে হবে: ব্র্যাক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৪, মে ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৬, মে ২৯, ২০২০

 

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে বাংলোদেশকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার সুপারিশ জানিয়েছে তারা। শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বিবৃতিতে বলেন, 'লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে সেখানে প্রায় এক দশক ধরে মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয়। তারা ইউরোপে লোক পাঠানোর নামে একেক জনের কাছ থেকে গড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা নিচ্ছে। ভূমধ্যসাগরের কাছে লিবিয়ার বিভিন্ন সীমান্তে ক্যাম্প করে তারা লোকজনকে জিম্মি করে ছোট ছোট নৌকায় করে ইউরোপে পাঠাচ্ছে। প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিরা প্রাণ হারাচ্ছেন। সর্বশেষ ২৬ জন নিহতের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একজন বাংলাদেশি ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছেন এবং গণমাধ্যমের খবরেও এসব কথা উঠে এসেছে। ৩৭ জন বাংলাদেশিসহ ৪০-৪২ জন মানুষকে জিস্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জড়ো করেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এই চক্রকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের সবাইকে খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশকে প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শরিফুল হাসান জানান, গত কয়েক বছরে আইওএম ও ব্র্যাকের প্রত্যাশা প্রকল্প থেকে সাড়ে তিনশ' লিবিয়া ফেরত বাংলাদশিকে সহায়তা দিয়েছে। ফিরে আসা বাংলাদেশিরা জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়সহ নিপীড়নের নানা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে বিশ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছেন। এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিতে গিয়ে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন। ভূমধ্যসাগর দিয়ে যত মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করা চেষ্টা করে, সেই তালিকার শীর্ষ দশে আছে বাংলাদেশ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলেই শুধু ৬৯৩ জন বাংলাদেশি এভাবে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন। আফগানিস্তান, সিরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মালি, আইভরি কোস্ট, ইরাক, গায়েনা ও সুদানের মতো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশিদের এভাবে ইউরোপ যাত্রা দেশের ভাবমূর্তিকেও সংকটে ফেলে।

এ ব্যাপারে শরিফুল হাসান বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো গত পাঁচ বছর ধরেই বন্ধ। তারপরেও কী করে এতো লোক বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া যাচ্ছে, সেই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। মূলত বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। কাজেই এই এলাকার স্থানীয় দালাল ও মানবপাচার চক্রকে চিহিৃত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশকেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানব-পাচারকারী যে চক্রগুলো রয়েছে লিবিয়া বা অন্য দেশে, তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে। বাংলাদেশ যেহেতু পালেরমো প্রোটোকল অনুসমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কাজেই সেই সুযোগ রয়েই গেছে।'

আরও খবর:

বেনগাজী থেকে ত্রিপলি যাওয়ার পথে জিম্মি করা হয়েছিল হতভাগ্য বাংলাদেশিদের

লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত

 

/এসও/এএইচ/

লাইভ

টপ