দেশে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা গ্লোব বায়োটেকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫৬, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩০, জুলাই ০২, ২০২০

 

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) রোগের টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ ঘোষণা দেয়।

গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৮ মার্চ তারা এই টিকা আবিষ্কারের কাজ শুরু করেন এবং সব পর্যায় শেষ করতে পারলে আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে এই টিকা বাজারজাত করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্লোবের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শুধু ব্যবসার কথা চিন্তা করে নয়, দেশের জন্য কিছু একটা করার জন্যই আমরা নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আমাদের গবেষণা কেন্দ্রে প্রাণীর ওপর আমরা প্রাথমিক ট্রায়াল করেছি। বর্তমানে গ্লোব বায়োটেকের তেজগাঁওয়ের ল্যাবে বাকি কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্বের মানুষ বিপর্যস্ত। তাই অন্য দেশের আশায় বসে না থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে আমাদের নিয়মিত গবেষণার পাশাপাশি কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ কিট, টিকা ও ওষুধ তৈরি সংক্রান্ত গবেষণাকর্ম শুরু করেছি।’

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে অ্যানিমেল পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে তার আগে বিএমআরসিতে আবেদন করবো, তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। শিগগিরই প্রটোকল তৈরি করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য এটি হস্তান্তর করা হবে।’

অনুমোদন পেলে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন ভাওয়েল ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি। এরপর তারা ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে আবেদন করবেন।

উন্নত দেশগুলো ভ্যাকসিন বানাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের দেবে—সেই আশায় বসে থাকলে হবে না মন্তব্য করে ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিজ্ঞান এবং কারিগরি অ্যাডভান্সমেন্টের কারণে এ স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা এটা আবিষ্কার করতে পেরেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনসিবিআই ভাইরাস ডেটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পাঁচ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে, এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি।

/জেএ/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ