‘নিউ নরমাল’ যুগে হেফজ শিক্ষা কার্যক্রম

Send
সালমান তারেক শাকিল
প্রকাশিত : ১৮:০২, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৬, জুলাই ১২, ২০২০

মুগদা বশিরুল উলূম হাকিমিয়া (সরদারবাড়ি) মাদ্রাসা, ছবি: সালমান তারেক শাকিল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে টানা ১২০ দিন বন্ধ থাকার পর সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে কোরআন শরিফ মুখস্তকরণ কোর্স (হেফজ বিভাগ) চালু করেছে কওমি মাদ্রাসাগুলো। এর মধ্যদিয়ে করোনাকালে দেশে আগের মতো প্রথম কোনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রবিবার (১২ জুলাই) থেকে হেফজ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাদ্রাসায় ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরাও। রবিবার মাগরিবের নামাজের পর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার দায়িত্বশীল শিক্ষকরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসাগুলোতে হেফজ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরেজমিনে মাদ্রাসাগুলোতে সীমিত পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদ্যোগ দেখা গেলেও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানে সতর্কতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের মাস্ক ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য দায়িত্বশীলদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় মাদ্রাসাগুলোতে নানা ধরনের চিত্র ধরা পড়েছে। বিশেষ সময়ের কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সম্মতিপত্র তৈরি করেছে ঢাকার কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান। আবার  কোনও কোনও মাদ্রাসায় শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগেই ক্লাসরুম ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। শিক্ষার্থীদের খাবারদাবার ও বাইরে ঘোরাফেরা নিয়ে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে ঢাকার বড় কয়েকটি কওমি মাদ্রাসায়। শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কোনও কোনও মাদ্রাসা। সবমিলিয়ে হেফজ শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন রীতি ও নিয়ম চালু হয়েছে— যা ইতোমধ্যে পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় ‘নিউ নরমাল সিচুয়েশন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলে মনে করেন কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে রাজধানীর পুরনো ঢাকার বড় কাটারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুটো পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। একটি হচ্ছে, অভিভাবকদের সম্মতিপত্র। তারা যদি তাদের সন্তানদের হেফজের ক্লাস করতে অনুমতি দেন, তাহলে লিখিত সম্মতি দিতে হবে। অভিভাবকরা যদি ক্লাস করাতে নিরাপদ মনে করেন এবং তাদের কোনও সন্দেহ না থাকে, তবেই তাদের সন্তানদের পাঠাবেন। এ ব্যাপারে কোনও চাপ নেই। দ্বিতীয়ত, ছাত্রদের কারও যদি এখন কোনও অসুস্থতা থাকে, তাহলে অভিভাবকরা যেন প্রতিষ্ঠানে না পাঠান, এ বিষয়টিও আমরা লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিভাবকদের জানিয়েছি।’

‘বড় কাটারা মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসককে পরামর্শের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে’ বলে জানান মাওলানা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ক্লাসরুমগুলো পরিষ্কার করেছি। শিক্ষার্থীদের পুরনো ট্রাংক, র‌্যাক বাইরে রেখেছি। আমরা বলে দিয়েছি, প্রত্যেকদিন বিছানার তোষক রোদে শুকাতে দিতে হবে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বড় কাটারা মাদ্রাসার মসজিদের কয়েকতলা ফ্লোরেও প্রয়োজনে ক্লাস নেওয়া হবে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মসজিদের বেশ কয়েকটি ফ্লোর আছে অন্তত ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেখানেও ক্লাস নেওয়া যাবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে ক্লাস শুরু করার কারণে ঢাকার মিরপুরের জামেয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসায় হেফজ শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম পরিষ্কার করে দিয়েছেন শিক্ষকরা। রবিবার সকাল থেকে একদিকে শিক্ষার্থীরা এসেছে মাদ্রাসায়, পাশাপাশি শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগেই শিক্ষার্থীদের মাথার চুল ছেঁটে দিয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবর্তিত নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছেন ঢাকার পুরনো এ হেফজ বিভাগটির শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানটির কিতাব বিভাগের শিক্ষক মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিজেরাই ছাত্রদের ক্লাসরুম ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেছেন। আজ  (রবিবার) মাগরিবের নামাজের পর থেকে ক্লাসে বসবে, কাল থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।’

ছাত্ররা কোনোভাবেই মাদ্রাসাগ্রাউন্ডের বাইরে যেতে পারবে না, উল্লেখ করে মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ বলেন, ‘হেফজ বিভাগের ছাত্ররা কোনও কারণেই মাদ্রাসার বাইরে যেতে পারবে না। তাদের চিকিৎসা ও অসুস্থ হলে প্রাথমিক ব্যবস্থা আমরা করবো। অভিভাবকদের জানাবো। করোনা সংক্রমণের আগে ছাত্ররা অনেকে সকালের নাস্তা বাইরে গিয়ে দোকানে খেলেও এখন তা বন্ধ। মাদ্রাসার অভ্যন্তরেই নাস্তাসহ খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকালে  বাইরের মাঠে খেলাধুলা করার জন্য যেতে পারবে না। মাদ্রাসার ভেতরে মাঠে হাঁটাহাটি করবে।’

মিরপুরের জামেয়া হোসাইনিয়া ইসলামীয়া আরজাবাদ মাদ্রাসায় হেফজ ছাত্রদের নিয়ে নানাকাজে ব্যস্ত শিক্ষকরা

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নামাজ ও জুমার নামাজও মাদ্রাসার মসজিদেই পড়তে হবে, এমন শর্তারোপ করা হয়েছে বলে জানান মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ।

রাজধানীর মানিকনগর জামিয়া মাহমুদিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে হেফজ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের মাদ্রাসার পাশেই একজন চিকিৎসক আছেন, যিনি প্রয়োজন হলে সাড়া দেবেন।’

মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী আরও  বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসায় সবমিলিয়ে ৬০-৭০ জন ছাত্র আছে। এরমধ্যে মাত্র ১০-১২ জন এসেছে। অভিভাবকেরা যোগাযোগ করেছেন অনেকে। তারা অনেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় কোরবানির ঈদের পর সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠাতে চান। আমরা আশা করছি, ঈদের পর পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে।’

মুগদা বশিরুল উলূম হাকিমিয়া (সরদারবাড়ি) মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি জাবের কাসেমী জানান, তার প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগে জীবাণুনাশক গেট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্রদের ক্লাসগ্রহণ শুরু হয়েছে রবিবার।

‘চলতি বছর হেফজ বিভাগের নতুন শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ভর্তি হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় ১৬৫ জন ছাত্রের মধ্যে শতাধিক এসে পৌঁছেছে’, বলে জানান আরজাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জুলকারনাইন বিন আজাদ।

রবিবার সকালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মাদ্রাসায় প্রবেশপথের চিত্র, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনের আলোকচিত্রী সাজ্জাদ হোসেন রবিবার (১২ জুলাই) সকালে গিয়েছিলেন রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদ্রাসায়। সেখানে তিনি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি।  সাজ্জাদ হোসেন জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার গেটের ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখেন, তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। তবে গেটের পাশে হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মাস্ক পরিধান ও খালি হাতে হ্যান্ডশেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রদের কারও কারও নমনীয়তা চোখে পড়েছে, বলে জানান সাজ্জাদ হোসেন।

করোনা মোকাবিলায় গত ১৭ মার্চ দেশের সব কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয় কওমি মাদ্রাসার সমন্বিত বোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়্যাহ। দেশের নারী কওমি মাদ্রাসাগুলোও একই ঘোষণার আলোকে বন্ধ রয়েছে। পরে গত জুনে কোরআন শরিফ মুখস্তকরণ কোর্স (হেফজ বিভাগ) চালু, শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগ্রহণ ও আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর জবাই-সেবা ও চামড়াসংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সরকারের অনুমতির জন্য আবেদন করে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাক)। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও কথা বলার পর সরকারপ্রধানের সম্মতি নিয়ে ১২ জুলাই থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাফেজি মাদ্রাসাগুলোকে কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

তবে সারাদেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বন্ধ রয়েছে, যা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে একাধিক শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা। এরমধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, কওমি মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় তাদের করণীয় কিছু নেই। তারা সরাসরি এ সংক্রান্ত কাজেও যুক্ত নেই। তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সমানভাবে মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য প্রযোজ্য বলে জানায় সূত্রটি। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রি-ওপেনিং’ গাইডলাইন এখনও চূড়ান্ত হয়নি, বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

কয়েকজন দায়িত্বশীল আলেম জানিয়েছেন, ক্লাস শুরু করা ও এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কওমি মাদ্রাসা থেকেও কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত কোনও ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা হয়নি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে খবর পাওয়া গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বন করে দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে উৎসাহিত করা হলেও মাস্ক ও স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব রয়েছে। ঢাকার বড় মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিদিন সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ পড়ছে। এছাড়া, গ্রামের কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে জানা গেছে, সেখানে সুরক্ষা সামগ্রী না থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মুগদা বশিরুল উলূম হাকিমিয়া (সরদারবাড়ি) মাদ্রাসার ক্লাসরুমের চিত্র

বাংলাদেশ কওমি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুফতী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সুরক্ষা সামগ্রী অনেকটা ব্যয়বহুল লাগছে। আমরা তো কার্যক্রম শুরু করেছি। কিন্তু প্রতিদিন এভাবে যদি কার্যক্রম পরিচালনা করি, তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই আমাদের আড়াই-থেকে তিন হাজার টাকার সামগ্রী প্রয়োজন। মাদ্রাসার জায়গার পরিধি হিসেবে অনুমান করেছি যে, প্রতিদিন এই খরচটা আসবে। ফলে এই ব্যয়ভার চালিয়ে নেওয়ার বিষয়টা চিন্তার কারণ। আমরা ভাবছি, লিখিতভাবে বেফাকের কাছে আবেদন করবো। আমরা পত্র-পত্রিকায় খবর দেখেছি, পাকিস্তানেও মাদ্রাসার বোর্ড একটি তহবিল করে মাদ্রাসাগুলোকে সহযোগিতা করছে। এই উদ্যোগটা আমাদের দেশেও নেওয়া যায়।’

জানতে চাইলে বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার কথা বলেছি। বেফাকের পক্ষ থেকে সব মাদ্রাসায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসাগুলোকে সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আলাদা তহবিল দেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, ‘এটা তো প্রতিষ্ঠানের বিষয়। এখনও তো পুরো মাদ্রাসা চালু হয়নি। কিতাব বিভাগ বন্ধ রয়েছে। হেফজ বিভাগ মাত্র খুললো। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে ব্যয় হবে, সেটা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের এসব সার্বিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরানের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সারাদেশে ১২ হাজারের ওপরে হেফজখানা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত লক্ষাধিক শিক্ষার্থী কোরআন শরিফ মুখস্তকরণ কোর্স পড়ছে বলে অনানুষ্ঠানিক একটি সূত্রে জানা গেছে ।

আরও পড়ুন:

তিন প্রস্তাব নিয়ে সরকারের দ্বারস্থ কওমি মাদ্রাসাগুলো

 

 

 

/এসটিএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ