‘এইটা আমার বাজানের লাশ না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৬, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪১, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২০

মা মর্জিনা বেগম ও ছেলে মইনুদ্দীনহাসপাতাল থেকে দেখানো লাশকে নিজের ছেলের লাশ বলে মেনে নিচ্ছেন না মর্জিনা বেগম। নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডিতে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ১৫ বছরের মইনুদ্দীনের লাশ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হলে মা মর্জিনা বেগম নিতে অস্বীকৃতি জানান।

মা মর্জিনা বেগমের পাশাপাশি বোন বিউটিও দগ্ধ ও বীভৎস লাশটিকে নিজের ভাইয়ের লাশ হিসেবে অস্বীকার করেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আন্ডারগ্রাউন্ডে ‘আমার বাবা কইরে’ বলে আহাজারি করছিলেন মর্জিনা বেগম।  কাছে যেতেই ছেলের ছবি দেখিয়ে বলেন ১৫ বছরের মইনুদ্দীন তার ছোট ছেলে। দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে তার সংগ্রামের সংসার। সবাই লেখাপড়া করে। গার্মেন্টসে কাজ করে একা তিন ছেলেমেয়েকে বড় করছিলেন তিনি।

তিনি জানান, গতকাল ছেলে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। কিন্তু আগুনের কথা শোনার পর মসজিদে ছুটে এলেও ছেলেকে পাননি। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বোন বিউটিকে আরেকজনের মোবাইল থেকে কল করে দগ্ধ মইনুদ্দীন তার পুড়ে যাওয়ার ঘটনা জানায়। সে বলে, ‘আমি পুইড়া গেছি, হাসপাতালে আছি। আমার পুরা শরীর ব্যান্ডেজ কইরা রাখছে।’

রাত একটায় আবার কথা হয় বলে জানান ভাইয়ের সঙ্গে। সেই ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদকে রীতিমতো অবিশ্বাস্য বলেই দাবি করছেন বোন বিউটি। বিউটি বলেন, কাল রাতে যে বলেছে ভালো আছে, সে কেমনে মইরা গেলো।

মর্জিনা বেগম ও বিউটির আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে  শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আন্ডারগ্রাউন্ড। তিনি বলছেন, ‘হাসপাতাল রোগীরেও দেখতে দেয় না, লাশও দেখতে দেয় না। অনেক অনুরোধের পর একটা লাশ দেখাইছে, কিন্তু সেইটা আমার বাজানের লাশ না। মানুষ পুইড়া গেলে ফুইলা যায়, কিন্তু এত লম্বা কেমনে হইবো বলেও প্রশ্ন মর্জিনা বেগমের।’

মোবাইলে থাকা ছেলের ছবি সবাইকে দেখিয়ে  ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলকে ছেলেকে খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করছেন এই মা।  

/জেএ/এফএএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X