প্রাথমিকের সব শ্রেণিতে অটো পাস?

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৯:২৪, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৭, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২০

নভেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা না গেলে প্রাথমিকের সব শ্রেণিতেই অটো পাস দিতে হবে। কারণ, ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হবে। আর এই সময়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও শেষ করা সম্ভব হবে না। সে কারণে মূল্যায়নও সম্ভব নয়। ফলে অটো পাস ছাড়া কোনও বিকল্প থাকছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই ছুটির পর আগামী ৪ অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য সময় থাকছে মাত্র ৭৬ দিন। আর নভেম্বরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য সময় থাকছে মাত্র ৪০ দিন। এই সময়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সর্বশেষ দুটি লেসন প্ল্যান অনুযায়ী সিলেবাস শেষ করা সম্ভব। যদি নভেম্বরে বিদ্যালয় খোলা যায় তাহলে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন করা যাবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে মূল্যায়নেরও সুযোগ থাকছে না।

আর ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলেও খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকে মাত্র চার দিন। এ সময়ের মধ্যে এ বছরে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও সম্ভব হবে না। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অক্টোবর ও নভেম্বরকে টার্গেট করে দুটি লেসন প্ল্যান তৈরি করেছি। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা অক্টোবরের লেসন প্ল্যান নিয়ে কাজ করবো। সেক্ষেত্রে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ৭৬ দিন সময় পাবো। অক্টোবরে খোলা না গেলে নভেম্বরে আমরা একটি লেসন প্ল্যান অনুমোদন করে রেখেছি। এক্ষেত্রে ১৯ ডিসেম্বরের ৪০ দিন সময় পাবো ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করানোর জন্য। সেটি যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে আমরা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে পারবো। আর যদি স্কুল খোলা না যায় (নভেম্বরে) তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের অটো পাস ছাড়া উপায় নেই। ’

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ‘যদি স্কুল খোলা যায়, আর পরবর্তী লেসন প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারি সেক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। সবকিছু নির্ভর করছে স্কুল খোলার ওপর।’

আকরাম আল হোসেন

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব বিষয় মাথায় রেখে গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাবনা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে ফাইল পৌঁছে। ওইদিনই মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পিইসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। স্ব-স্ব বিদ্যালয় নিজেরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। 

মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ। এতে ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। সে কারণে পঞ্চম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হবে না। আর গত ১৭  মার্চ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। পাশাপাশি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। তবে পুরো বিষয়টি কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও করোনার পরিস্থিতি অনুযায়ী। সর্বশেষ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ব্যাখ্যাসহ জানালেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না গেলে মূল্যায়ন সম্ভব হবে না।

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ