নারী নির্যাতন প্রতিরোধে হটলাইন: কল আসেনি একটিও, প্রয়োজন প্রচারণা

Send
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত : ১৫:০০, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৩, অক্টোবর ৩১, ২০২০

ডিএমপি

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে হটলাইন নম্বর চালু হলেও, এখন পর্যন্ত এই নম্বরে কোনও ফোন কল আসেনি। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম ও এই হটলাইন ০১৩২০০৪২০৫৫ নম্বরটি চালু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। নম্বরটি চালুর পর থেকে এখনও কোনও সেবা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি এই কুইক রেসপন্স টিমের। উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নম্বরটি প্রচার না হওয়ায় সেই অর্থে আমরা সেবা দেওয়ার মতো সুযোগ পাইনি।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক অপরাধগুলো সরাসরি প্রতিরোধ করা একটু কঠিন। এজন্য কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও হটলাইন চালু করা হয়েছে। নারীরা রাস্তায় বা অন্য কোথাও অনিরাপদ বোধ করলে বা বিপদে পড়লে, এই টিমের হটলাইনে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সাহায্য নিতে পারবেন। নারীদের সমস্যা শুনতে ও সামাজিক নির্যাতন প্রতিরোধ করতে একটি বিশেষ টিমের প্রয়োজন অনুধাবন করেই কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। বিপদাপন্ন নারীকে সহায়তা দিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এ টিম।

উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিনা মাহমুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেদিন এই নম্বরটি চালু হয়েছে, সেদিন মাঝরাতে খুব সম্ভবত খিলক্ষেত এলাকা থেকে একজন নারী ফোন করেছিলেন। তিনি অনলাইনে কোনও পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। সেই বিষয়ে অভিযোগ দিচ্ছিলেন এবং ব্যবস্থা নিতে বলছিলেন। আমরা তাকে বুঝিয়ে জানিয়েছি, আমরা সাধারণত নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করি। মূলত আমরা এখনও কাউকে সেবা দিতে পারিনি। তবে আমরা ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত আছি। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে যেকোনও ডাকে সাড়া দিতে।’

পুলিশের এই সহকারী কমিশনার বলেন, ‘এখনও নম্বরটি সেইভাবে প্রচার পায়নি। হটলাইন নম্বরটির প্রচার প্রয়োজন। পরিচিতি পেলে আমরা ভুক্তভোগীদের সাহায্য করতে পারবো। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো। ’

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) উপ-পুলিশ কমিশনার হামিদা পারভিন বলেন, ‘২০০৯ সালে এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার নারীকে সেন্টারে রেখে সেবা দিয়েছি আমরা। ২০১১ সাল থেকে মামলার তদন্ত নিয়ে কাজ করার অনুমতি পায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫০০টি মামলা তদন্ত করেছি। এরমধ্যে ৩ হাজার ৩০০ মামলার চার্জশিটও দিয়েছি। এখানে থাকা অবস্থায় ভিকটিমদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আমরা কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই কাজটিও আমরা ঠিকভাবে করতে পারবো। বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। এই হটলাইন ও টিমটি অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করতে।’

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই না কোনও নারী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হোক। তাদের কথা শোনার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা। আমরা টিমটাকে এমনভাবে তৈরি করবো, যেখানে যেকোনও মেয়ে বা বোন তার খারাপ লাগার জায়গাটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। এখানে সার্বক্ষণিক একটি গাড়ি থাকবে। পরবর্তীতে আরও গাড়ি যোগ হবে। ৯৯৯-এর মতো যেন আমাদের একটা শক্ত টিম হয়, বা রেসপন্স করতে পারে সেই আশা নিয়ে কাজ করছি।’

পুলিশ সদস্যদের মানবিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘থানায় ভুক্তভোগী এলে কীভাবে মানবিক সহায়তা দিতে হবে, তা পুলিশ সদস্যদের শেখানো হচ্ছে। প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক রাখা হয়েছে, যেখানে নারী কর্মকর্তাদের পদায়িত করার চেষ্টা চলছে। আমরা এই টিমের ৩০ জন নারীকে সেভাবেই প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করছি। যেন তারাও মাঠে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে পারেন।’

প্রচারণার বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা সবে একটা নম্বর চালু করেছি। মিডিয়ার মাধ্যমে যতটুকু প্রচার হয়েছে, তার বাইরে আলাদাভাবে কিছু করা হয়নি। ব্যাপকভাবে প্রচার করতে পারলেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। সেটা নিয়েও কাজ করবো।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ