সম্প্রতি জঙ্গি আক্রমণগুলো ভাবিয়ে তুলেছে দেশের অধিকাংশ মানুষকে। বাংলা ট্রিবিউনের জরিপে দেখা গেছে, ৭১.০৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। আর এই জঙ্গি আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার দায় তারা দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর ওপর। দেশের ৩২.৮৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই দলটিই জঙ্গি আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। একইসঙ্গে দেশে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে তাও উড়িয়ে দিয়েছেন ৬৫.৭০ শতাংশ মানুষ।
তবে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার পেছনে বর্তমান সরকারকেও দায়ী করেছেন ২১.২১ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে বিএনপিকে দায়ী করেছেন ৬.৪৮ শতাংশ। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসকে দায়ী করেছেন ১২.২৪ শতাংশ, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদকে দায়ী করেছেন ৪.৬৫ শতাংশ, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমকে দায়ী করেছেন ১১.৬৮ শতাংশ এবং অন্য ইসলামী এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করেছেন ৮.৯৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
জঙ্গি আক্রমণ: কোন বয়সের মানুষ কাকে বেশি দায়ী মনে করেন:
বাংলা ট্রিবিউনের জরিপে দেখা যায়, সব বয়সের মানুষই মনে করছেন জঙ্গি আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী জামায়াত এবং দ্বিতীয় দায়ী বর্তমান সরকার। যেমন- ১৮-৩০ বছর বয়সী ১৯১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ২৯.৮২ শতাংশের মতে জামায়াতই দায়ী। এই বয়সের মতে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বর্তমান সরকার (২২.২৬ শতাংশ)।
অন্যদিকে ৩১-৪০ বছর বয়সী ১৭৮৯ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩৩.৩৭ শতাংশের মতেও জামায়াত দায়ী। এই বয়সের মধ্যেও সরকারকে দায় দিয়েছেন ১৯.১৭ ভাগ।
৪১ বছর বা তার বেশি বয়সী অংশগ্রহণকারী ১২৪৩ জনের মধ্যে ৩৬.৮৫ শতাংশের মতে জঙ্গি আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণ জামায়াত। এই বয়সের অংশগ্রহণকারীদের মতে সরকার রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। সরকারকে দায় দিয়েছেন ২২.৫৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
অর্ধেকেরও বেশি মনে করেন দেশে নেই আইএস:
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের উপস্থিতি আছে কিনা জানতে চাইলে ৬৫.৭০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘না’ বলেছেন। তবে আইএস আছে বলে মত দিয়েছেন ৩২.৩৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, সারাদেশে ৬৪টি জেলার ৪৯৫০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি এই জরিপ পরিচালনা করে বাংলা ট্রিবিউন।
জরিপ প্রক্রিয়া:
জরিপের সময়কাল: ১৭ জানুয়ারি-২৫ জানুয়ারি, ২০১৬
জরিপ পরিচালনা: বাংলা ট্রিবিউন
নমুনা (sample) সংগ্রহের প্রক্রিয়া:
১. প্রতি জেলায় ৫০ জন করে ৬৪টি জেলায় জরিপ চালানো হয়েছে।
২. ৭টি বিভাগীয় শহরের প্রতিটিতে ৩০০ জনের ওপর জরিপ করা হয়েছে (ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর বাদে)।
৩. রাজধানী ঢাকায় ৩০০ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়।
৪. দৈবচয়ন (Random) প্রক্রিয়ায় প্রতি ১০ মিনিট অন্তর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
৫. জরিপকারীরা একইস্থানে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা অবস্থান করেছেন।
৬. নমুনা সংগ্রহের জন্য জেলা/বিভাগীয় শহরের হাট-বাজার/শপিংমলকে স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
৭. জরিপে আয়ের প্রশ্নে ছাত্র ও গৃহিনীর ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের আয়-ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।







