গাজীপুরের শ্রীপুরে শোডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামীলীগ, বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা। শোডাউন থেকে বাদ যাননি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গাজীপুর জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিছুর রহমান। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে আশীর্বাদ নিতে দলীয় কার্যালয়ে গেলেও উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কাউকে পাননি তিনি। এ সময় কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। পরে তিনি কার্যালয়ের সামনে বসেই মোনাজাত ও দোয়া করে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
আওয়ামীলীগ থেকে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে বসে মিলাদ ও মোনাজাত করেছেন।
আওয়ামীলীগ কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে বসতে পারেননি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কার্যালয়ের সামনে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করেছিলেন। ওই সময় পর্যন্ত আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি।
সরেজমিন শ্রীপুর পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান এবং বিএনপির প্রার্থী শহীদুল্লাহ শহীদ তাদের দলীয় কর্মী সমর্থকদের মোটরসাইকেল বহর নিয়ে পৌর শহরে প্রবেশ করে। বিএনপির প্রার্থী শহরের বাস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মোটরসাইকেল রেখে শোডাউন করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা উপজেলা আওয়ামলীগ কার্যালয়ের আশপাশে মোটরসাইকেল রেখে প্রার্থীর সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে যান। এসময় কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীকেও শোডাউন করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে প্রার্থীরা এককভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস ভবনে প্রবেশ করেন।
আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আনিছুর রহমান জানান, তিনি শ্রীপুর উপজেলা এবং পৌর আওয়ামীলীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুঠোফোনে মনোনয়নপত্র জমাদানের দাওয়াত করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে গিয়ে তিনি তালাবদ্ধ দেখতে পান। এসময় তার সাথে ছিলেন স্বতঃস্ফুর্ত তৃণমূল এবং সাবেক নেতাকর্মী-সমর্থকেরা।
পরে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের পক্ষে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে পৌর এলাকার মাধখলা তার নিজ বাড়ির অফিসে বসে তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বিএসসি, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. ওয়াজ উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আকতারুজ্জামান, শ্রীপুর পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন, মো. নূরে আলম, মো. মাসুদ আলম ভাঙ্গী, জেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আইয়ুব হাসান ভুঁইয়া, গাজীপুর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ প্রমূখ।
আওয়ামীলীগ প্রার্থীর মনোনয়ন জমাদানের সময় শ্রীপুর উপজেলা, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন না।
আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের অফিস পিয়ন শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার রাতেই পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্ডল বুলবুল আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেছেন।
শ্রীপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, তালা দেওয়ার বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক এবং অফিস পিয়নের। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি প্রার্থীর সঙ্গে যেতে পারেননি। তবে মঙ্গলবার আওয়ামীলীগের কর্মীসভায় সকলকে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে এবং সে আনুযায়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের পক্ষেই কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। বিষয়টি জানা থাকলে অবশ্যই তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতাম। প্রতিদিন অফিসের পিয়ন তালা খুলে দেন।
প্রসঙ্গত, মেয়র পদে আওয়ামীলীগ থেকে আরও চারজন প্রার্থী ছিলেন। তারা হলেন-শ্রীপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি আহসান উল্লাহ, শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মিজানুর রহমান খানের ছেলে এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন খান।
মনোনয়ন জমা না দেওয়া শ্রীপুর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, দলের সিদ্ধান্তকে এবং জননেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রাখতেই আমি মনোনয়ন জমা দেইনি। দলের সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ অবশ্যই পালন করব।
আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান বলেন, আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছি। এই প্রথম দলীয় প্রতিকে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। আর এ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনীত করেছে। এবারও আমি ইনশাল্লাহ জনগনের প্রত্যাশা পূরন করতে পারবো। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সচেষ্ট থাকবো এবং সকল প্রকার নির্বাচনী আচরনবিধি মেনে চলবো। টানা দুইবার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ছিলাম। শ্রীপুর পৌরসভার চলমান উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমাদান
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল্লাহ শহীদ ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী। তিনি বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মাওলানা এস এম রূহুল আমীন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, সাবেক সভাপতি আব্দুল মোতালেব, সিরাজ উদ্দিন কাঁইয়া, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
মনোনয়ন জমাদানকালে শহীদুল্লাহ শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রশাসন, পুলিশ এবং জনসাধারণের কাছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারলে তার জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
শ্রীপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে চার জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ শহীদ, শ্রীপুর পৌর জাসদের সভাপতি মো. আবুল কাসেম এবং স্বতন্ত্র শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম ভিপি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সদস্য মো. আহসান উল্লাহ। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে (সাধারন) ৪৯ জন এবং কাউন্সিলর পদে (সংরক্ষিত) ১২ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২০০০সালের ২৮নভেম্বর শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবার হবে এ পৌরসভার তৃতীয় নির্বাচন। ৪৬.৯৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৫৭ হাজার ৯৬১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ হাজার ২২৬ জন এবং মহিলা ভোটার ২৮ হাজার ৭৩৫ জন।
/টিএন/








