আমাকে এক কথায় বিদায় করে দিয়েছে: মুনির আহমদ

চৌধুরী আকবর হোসেন
০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:০০আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:২১

মুনির আহমদ হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন মুনির আহমদ। তিনি বলছেন, হেফাজতের প্রেস সচিব বা হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে তাকে লিখিত কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। তাকে এক কথাতেই বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় মুনির আহমদের। তিনি জানান, গত ২৮ আগস্ট তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক নির্দেশে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০০ সাল থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ওই দিনই তার কাছ থেকে সেই দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট সব হিসাবও বুঝে নেওয়া হয়েছে।
মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে মুনির আহমদ বলেন, ‘‘আমি হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৪ সালে দাওরায়ে হাদিস শেষ করি। এর পরপরই মাসিক মুঈনুল ইসলামে যোগ দেই। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী হুজুর আমাকে ম্যাগাজিনটির সহযোগী সম্পাদক পদে নিয়োগ দেন। পরে ২০০০ সালের জুন মাসে ‘মজলিশে শুরা’র বৈঠকে আমাকে মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।’’
নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর মাসিক মুঈনুল ইসলামকে লাভে নিয়ে এসেছেন জানিয়ে মুনির আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলাতেই মাসিক মুঈনুল ইসলামের গ্রাহক-এজেন্ট রয়েছে। প্রায় ২৩ বছর এই পত্রিকায় কাজ করেছি। এই ২৩ বছরে একটি সংখ্যাও বন্ধ থাকেনি। তবে ২০০০ সালে আমি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগের বছর পত্রিকা খাতে বার্ষিক ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১ টাকা। ২০১১ সালে সেটা বার্ষিক ৮৪ হাজার ৫৩৪ টাকা মুনাফায় পৌঁছায়। মুনাফার সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় পত্রিকায় সব ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশের সুযোগ থাকে না, সবাই বিজ্ঞাপন দিতেও আগ্রহী হয় না। তা সত্ত্বেও ম্যাগাজিনটি মুনাফায় থাকাটা বড় একটি সাফল্য।’
হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সদ্য অব্যহতি পাওয়া প্রেস সচিব মুনির আহমদ হেফাজত আমিরের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে মুনির আহমদ বলেন, ‘শুরুর দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। ২০০০ সালের পর থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করার পরিমাণ বাড়তে থাকে। হুজুরের নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রাফট করতাম। ২০১৩ সালের ১৩ দফা আন্দোলনের শুরুর দিক থেকেই হুজুরের প্রেস সচিব হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করি। কিন্তু গত জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে আমাকে ওই পদবি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়। এরপর ফেসবুকের ব্যক্তি পরিচিতি থেকে প্রেস সচিব পদবিটি মুছে দেই।’
হেফাজত আমিরের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুনির আহমদ বলেন, ‘হুজুরের সঙ্গে আমার অগণিত স্মৃতি। হুজুর আমাকে স্নেহ করতেন। গত কয়েক বছরে সেই স্নেহ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। হুজুর আমার কাজের অনেক প্রশংসা করেছেন। প্রায় প্রতিদিন সকালেই হুজুরকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন পত্রিকা পড়ে শুনাতাম। বিশেষ বিশেষ খবর নিয়ে হুজুর বিশ্লেষণধর্মী মতামত দিতেন, পর্যালোচনা করতেন। আবার হুজুরের প্রেস রিলিজ নোট করার দায়িত্ব পড়লে বিকালেও যেতাম তার কাছে। তিনি প্রেস রিলিজের খুঁটিনাটি দেখতেন এবং কোথাও সংশোধনীর দরকার হলে নির্দেশ দিতেন।’
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রসঙ্গে হেফাজতের সাবেক এই প্রেস সচিব বলেন, ‘গত ২৮ আগস্ট দুপুর দেড়টায় তাৎক্ষণিক মৌখিক নির্দেশে হাটহাজারী মাদ্রাসার হিসাব বিভাগ মাসিক মুঈনুল ইসলাম পত্রিকার আয়-ব্যয়ের হিসাব আমার কাছ থেকে বুঝে নেয়। দুপুরে খাওয়া শেষে বিকাল ৩টায় যথারীতি আমি অফিসে আসি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমাকে জানানো হয়, কার্যালয় ও কম্পিউটার কক্ষের খাতাপত্র, মালামাল ও পত্রিকার স্টক কপিসহ সব বুঝিয়ে দিতে হবে। পরে মাসিক মুঈনুল ইসলামের সার্কুলেশন ম্যানেজার মাওলানা আব্দুস সবুরকে নিয়ে তারা সবকিছু বুঝে নেন। আমাকে এক কথায় বিদায় করে দিয়েছে।’
হেফাজত আমিরের প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন কিনা, জানতে চাইলে মুনির আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর ধরেই দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত ছিল। সে কারণেই হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের বক্তৃতা-বিবৃতি তার নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করতাম, প্রচার করতাম। সে সূত্রেই হেফাজত আমিরের প্রেস সচিবের দায়িত্ব আমি পাই। তবে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমার নাম নেই। তাছাড়া আমি এ পর্যন্ত কখনই কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে ছিলাম না। সক্রিয় কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও আমার নেই।’
নতুন কোথাও যোগ দিয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে মুনির আহমদ বলেন, ‘চাকরি গিয়েছে মাত্র কয়েকদিন হলো। এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, কখনও ভাবিনি। এরই মধ্যে শুভাকঙ্ক্ষীরা যোগাযোগ করছেন। ভাবছি, কিছু দিন বিশ্রামে থেকে তারপর সুস্থির হয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

আরও পড়ুন-
‘বন্যা যতদিন থাকবে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম ততদিন চলবে’

লন্ডনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন না খালেদা-তারেক

/এনআই/টিআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম