একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের প্রচারণায় চাঙা হয়ে উঠেছে দলটির তৃণমূল। সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই হাজার মনোনয়ন-প্রত্যাশী সারাদেশে নিজ-নিজ নির্বাচনি এলাকায় সময় দিতে শুরু করেছেন। এতে নেতাদের কাছে পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও।
শুক্রবার বা যেকোনও ছুটির দিন সুযোগ পেলেই নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন তারা। এরফলে চাঙা ভাব দেখা দিয়েছে তৃণমূলের রাজনীতিতে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন-পুরনো সব মনোনয়ন-প্রত্যাশীকে ভোটার তালিকা ধরে প্রত্যেক ভোটারের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে– এমন নির্দেশনাও দেন তিনি ওই সভায়। অন্যথায় শাস্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, এখনও কাউকে চূড়ান্ত সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। ফলে মনোনয়ন-প্রত্যাশী সবাই চেষ্টা করে যেতে পারে। যার অবস্থা ভালো, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেছেন, দলীয় প্রধানের এমন বক্তব্যের পর বর্তমান সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা নিয়মিত নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাচ্ছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙা ভাব বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা নিয়মিত নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাচ্ছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এটা সংগঠনের জন্যে ভালো।’
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা বর্তমান সংসদের সদস্য তাদের অধিকাংশই ছুটির দিনে নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সংসদ সদস্য নন,তবে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশী এমন কেন্দ্রীয় নেতারাও নিজ এলাকায় যাচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন,‘সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের কর্মতৎপরতা বাড়ছে। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আমাদের নেত্রী যাকে মনোনীত করবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার সঙ্গেই কাজ করবেন এবং ভোট দেবেন।’
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন,‘একটি এলাকায় বিভিন্ন প্রার্থীর যখন পদচারণা থাকে, তখন নির্বাচনি একটা আবহাওয়া তৈরি হয়। প্রার্থীদের পদচারণায় অবশ্যই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। দলে অনেক প্রার্থী থাকে, সেখানে অনেকের পছন্দ-অপছন্দ থেকে যায়। দল যখন একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐক্য তৈরি হয়ে যায়।’
যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ জানান,মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আবারও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে।’
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে কে মনোনয়ন পাবেন, কে পাবেন না– তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের ভিড়ে এলাকা চাঙা ভাব বিরাজ করছে। সবাই সবার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত আট বছরে যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনে দল ভালো করবে।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের আনাগোনা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছে। এতে নৌকার প্রচার-প্রচারণাও বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেত্রী দেবেন।’
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের পদচারণা তৃণমূলের সংগঠন চাঙা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছে, তবুও নেত্রীর (শেখ হাসিনা) প্রশ্নে সবাই এক হয়ে যায়।’ আগামী নির্বাচনে কেমন প্রাথী হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে রাজনীতির জন্য, দলের জন্য এবং সর্বোপরি শেখ হাসিনার জন্য ভালো হবে।’
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম চৌধুরী সেলিম জানান, মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের পদচারণায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তারা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।
ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোমিন টুলু বলেন, ‘আমাদের জেলায় নতুন মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেই। কারণ, যে চারজন এমপি এই জেলায় আছেন, তারা নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়। সুতরাং নতুন প্রার্থীর দরকার নেই। নেত্রী আগামীতে অবশ্যই এ চারজনকে মনোনয়ন দেবেন।’








