নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (বুধবার) জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্যকে প্রশ্ন করেছেন, দেশের সুশীল সমাজ কেন উন্নয়ন দেখতে পায় না? আমার প্রশ্ন হচ্ছে— দেশে যদি এতই উন্নয়ন হয়, তাহলে চালের দাম বেশি কেন? পেঁয়াজের দাম বেশি কেন? দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে মানুষ রাস্তায় কেন?’
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল ও পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি’তে এক সমাবেশে মান্না এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মান্না বলেন, ‘বলেছিলেন, ১০ টাকা দামে চাল খাওয়াবেন। এখন চালের দাম কত? চালের দাম বাড়ার কারণে দেশের ১০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে। আজ আপনারা একের পর এক মিথ্যা বলে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেন।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার প্রবৃদ্ধির কথা বলে। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রবৃদ্ধি এখনকার চেয়েও দুই শতাংশ বেশি ছিল। আপনারা (সরকার) উড়াল সেতুর উন্নয়ন করেছেন। উড়াল সেতু করে যানজট আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রাস্তা ও উড়াল সড়ক করতে যে টাকা ব্যয় হয়, বাংলাদেশে তার চেয়ে অন্তত দেড় থেকে দুই গুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের নারী নেতারা এক প্রগতিশীল নেত্রীর বস্ত্রহরণ করেছে। নারায়ণগঞ্জে যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। আওয়ামী লীগ আর পুলিশ বলছে, তারা সব ঘটনার তদন্ত করছে। বাংলাদেশের সব মানুষ এসব ঘটনা দেখতে পেলেও আওয়ামী লীগ আর পুলিশ সেটা দেখতে পারছে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, ‘ভিসি কেন দরজা বন্ধ রাখেন? শিক্ষার্থীরা তো দরজা ভাঙেনি। তারা ভেঙেছে তালা। তাহলে ভিসির দরজায় তালা লাগবে কেন? এই শিক্ষার্থীরা যখন একটি ঘটনার বিচার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে গেছেন, তখন তিনি ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।’
আওয়ামী লীগ জনগণের কাতারে নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এর প্রমাণ দিয়েছে। ওপরে আওয়ামী লীগের স্টিকার আর ভোটের বুথে গিয়ে বিরোধী দলকে সিল মেরে দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগও আর ভোটারদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছে না। সে জন্যই নির্বাচন নিয়ে এত কিছু করছে।’ সময় থাকতে তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার আহ্বানও জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।








