দুর্নীতিবাজদের রক্ষার করার উদ্দেশ্যেই বিএনপি সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বলে মনে করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির নেতারা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন, তাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাদের রক্ষা করতে দলের গঠনতন্ত্রের ৭ (ঘ) ধারা বাতিলের প্রয়োজন হয়েছে। তাই তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ইসিতে জমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এই নেতাদের ভাষ্য—বিএনপি যে দুর্নীতিপরায়ণদের দল, গঠনতন্ত্র থেকে ৭ (ঘ) ধারা বাদ দিয়ে সেটা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা আবারও প্রমাণ করেছেন। বিএনপির এই কৌশল বাস্তবায়িত হবে না। কারণ, বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গণ-প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করেন।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির ছোট বড় সব নেতাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। ফলে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ (ঘ) ধারা বাদ দিয়ে দলের নেতাদের রক্ষা করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘এটা করে তারা আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা।’
ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গণ-প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে বিষয়টি সংযোজন হয়েছে। বিএনপির দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ (ঘ) ধারা বাদ দিলেও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) থেকে বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নাই।’
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিএনপির হীন মানসিকতা প্রমাণ পেয়েছে।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত যে গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে, তা মূলত দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিতে। বিএনপি এর মধ্যদিয়ে প্রমাণ করেছে এই দলটি দুর্নীতিবাজদের দল।’ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির জন্ম, দুর্নীতি ও কুচক্রী মহলের কু পরামর্শে। আমরা যে এতদিন বলে এসেছি, বিএনপি দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী ও সন্ত্রাসী দল— এটা প্রমাণ হয়েছে।’
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি সংশোধনী জমা দিয়েছে।আমরা পেয়েছি। তবে সংশোধনীতে কী আছে তা এখনও দেখিনি। পর্যালোচনা করে তারপর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। সংশোধনীতে গঠনতন্ত্রের ৭ (ঘ) ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (ঘ)নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত কোনও ব্যক্তি দলের যে কোনও পর্যায়ে কমিটির সদস্য বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’
আরও পড়ুন:
ডিজিটাল আইনের কোন ধারায় কী শাস্তি








