বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খুব আফসোস হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সোমবার ( ১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট গাজীউল হকের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কামরুল বলেন, ‘আজকে দুর্নীতির দায়ে বেগম খালেদা জিয়ার যে সাজা হয়েছে এজন্য একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি ব্যথিত। আমার ঘৃণা হয়, লজ্জা হয়—দুবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে আজ কারাগারে। তাদের লজ্জা থাকতে না পারে, আমার আছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি লজ্জিত। এতে আমরা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করছি। এই রায় কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায় নয়। এই মামলা তত্ত্ববাধায়ক সরকারের আমলের, আজকে তাদের আইনজীবীরা অহেতুক ঢিলেমির প্র্যাকটিস করতে করতে নির্বাচনের বছরে এসে মাঠ গরম করছেন।’
সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চাই না। এমনকি কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই না। সংবিধান থেকে বেরিয়ে আসার কোনও সুযোগ নেই। আজকে বিএনপির মানববন্ধনেও তাদের নেতারা বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সহায়ক সরকারের কথা। আমি তাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচনকালীন সরকার হবে। নির্বাচন কারও জন্য বসে থাকবে না। তবে খালেদা জিয়া তাতে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা সুপ্রিমকোর্ট এবং নির্বাচন কমিশন ভালো বলতে পারবেন।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আপনারা নির্বাচন বানচালে অন্য পথে হাঁটেন তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। এখন পর্যন্ত মোটামুটি শান্তি বজায় রাখলেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আপনাদের যে পরিচয়, আপনাদের যে চরিত্র তাতে আপনাদের ওপর ভরসা রাখা যায় না। নির্বাচন বানচাল করার কোনও সুযোগ নেই। গঠনতন্ত্র সংশোধন করে আপনারা জনগণের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। চোরের বরপুত্র, দুর্নীতির সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করেছেন। যে যাই বলুক আমরা দল ভাঙার আভাস পাচ্ছি। আপনাদের বিকল্প পথ খুঁজতেই হবে। দল ভাঙার পেরেক ঠুকে গেছে, এখন দেখার বিষয় কবে ভাঙে। ফেরারি আসামির নেতৃত্বে দলের বিবেকবান, সৎ রাজনীতিবিদ আপনাদের দলে কোনও অবস্থাতেই চুপ করে বসে থাকবে না। তাদের পদক্ষেপ তারা নেবেই। সরকারের এখানে কোনও হাত নেই।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুসহ অন্য নেতারা।








