বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছে তার দলের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এর উদ্বোধন হয়।
দলের নেত্রী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চলবে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জনগণের রায়ে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হলেন খালেদা জিয়া। যিনি কখনও কোনও নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেননি, সেই খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। অগণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ সরকার বলপ্রয়োগ করে বেআইনিভাবে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলার মাধ্যমে তাকে নির্জন কারাগারে আটকে রেখেছে। তাকে মুক্ত করা এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি।’
মির্জা ফখরুলের কথায়, ‘বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রতি জনগণের কোনও সমর্থন নেই। তাই নিজেদের পুরনো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করেছে তারা।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তাতে সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণ করে সফল করার জন্য সারাদেশের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। নেতাকর্মীদের শান্তভাবে ও ধৈর্য ধরে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মুখে শোনা গেলো, ‘কখনও বিশৃঙ্খল হবেন না। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচিগুলোও শান্তভাবে পালন করতে হবে।’
তবে বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মানসিকতা রাখলেও গ্রেফতার করে নাশকতার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ‘আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটি থেকে তৃণমূল পর্যায়ে এমন কোনও জেলা নেই, যেখানে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকার মানুষের অধিকার কেড়ে জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের পক্ষে কোনও দিন তা সম্ভব হবে না। কারণ, ইতিহাস তাদের পক্ষে নেই। জনগণের উত্তাল প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের মুখে এই সরকারকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য, ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা থাকবে কিনা, আমরা স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে বাঁচবো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই সরকারের উস্কানি ও নীলনকশা ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। বসে না থেকে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন, সোচ্চার হন, প্রতিবাদ করুন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এছাড়াও ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদীন ফারুক, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মীর নেওয়াজ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, রফিক সিকদার, মর্তুজা চৌধুরী তুলা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহম্মেদ, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতারসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।








