দেশে এমন একদিন আসবে, পরীক্ষার্থীদের আওয়ামী লীগের পতনের কারণ লিখতে বলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক।
মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুঃশাসন-জুলুম-দুর্নীতি-লুটপাটতন্ত্র-পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
গত ১৮ জুলাই সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্ক্সবাদী)— এই আট দল মিলে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন করেছে। এর সমন্বয়ক করা হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। জোটটির এটিই প্রথম কর্মসূচি।
সাইফুল হক বলেন, ‘দেশে এমন একদিন আসবে, পরীক্ষার্থীদের আওয়ামী লীগের পতনের কারণ লিখতে বলা হবে। এখন ছাত্ররা ঐতিহাসিক সম্রাটদের পতনের কারণ হিসেবে লেখেন সন্ত্রাস, গুম, রাহাজানি ও লুটপাট। তখন ছাত্ররা আওয়ামী লীগের পতনের কারণ হিসেবেও একই কথা লিখবেন। তাই সময় থাকতে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। অন্যথায় দেশ-জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশে যদি গণতন্ত্র থাকতো তাহলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা ও তাদের হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হতো না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মিথ্যাচার করছেন অভিযোগ করে সাইফুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন কোনও কোটা থাকবে না। অথচ এখন তিনি হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই গণতন্ত্র আজ কোথায়? রাজনৈতিক দল তো দূরে থাক, সাধারণ জনগণও আজ মুক্তভাবে কথা বলতে পারে না। কেউ কোনও সমাবেশ-মিছিল-মিটিং করতে পারে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তায় যানজট লাগিয়ে সমাবেশ করতে পারেন। তাহলে এটা একনায়কতন্ত্র বলবো নাকি গণতন্ত্রের দেশ বলবো?’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেভাবে সরকারের কথামতো কাজ করছে, এটা চলতে থাকলে দেশের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন।’
দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য সব বাম-প্রগতিশীলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলন করার আহ্বান জানান সাইফুল হক।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সুধাংশু শেখর চক্রবর্তী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।








