জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানে সংলাপের সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উদার রাজনীতি’র পরিচয় বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিক দলগুলো নেতারা। তারা বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সংলাপের আহ্বান করে প্রত্যাখ্যাত হয়েও এবার সংলাপে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। তবে, তিনি বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করছে না। সংলাপে বসছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে। ঐক্যফ্রন্টেরই একটি অংশ হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধিরা সংলাপে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা বরাবর বলে এসেছি দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট করে জানালে আলোচনা মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লাল টেলিফোনে খালেদা জিয়াকে ডেকেছিলেন। তিনি কোকোর মৃত্যুতে শোক জানাতে বাসা পর্যন্ত গিয়েছিলেন। দুই ক্ষেত্রেই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। এবার তারা যখন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাতে বড় মনের পরিচয় দিয়ে আলোচনার জন্য এগিয়ে গেছেন। এর ফলে নিশ্চয়ই রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে। আমরা আশা করবো, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধানে একটি পদক্ষেপ আসবে।’ তবে সংলাপে সংবিধানের বাইরে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না বলে মনে করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সংলাপে ডাকেননি। তারা চিঠি দিয়ে দেখা করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সাড়া দিয়েছেন, বলেছেন আসুন। দেখা আগে হোক। তারা দেখা হওয়ার পরে কী বলেন, কী দাবি করেন, সাক্ষাতের পরে তার পরিণতি বলা যাবে। আগেভাগে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের যেকোনও সংলাপকে স্বাগত জানাই। নির্বাচনসহ বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সংকট আছে, আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের মধ্যে থেকে তার একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। সবাইকে নিয়ে দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।’
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপ। এর ফলে দেশে যে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিবেশ রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের পথ উন্মুক্ত করবে। আগামীতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সুনিশ্চিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগেরবার সংলাপের আহ্বান করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে বিএনপিকে। এবারও বিএনপি দলীয়ভাবে সংলাপ নিয়ে যেটা বলতে শুরু করেছে, তা ভালো লক্ষণ নয়। তবে, আমরা আশাবাদী হতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে সংলাপে ডাকেননি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংলাপে ডেকেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। বিএনপি প্রধান ও বড় দল হলও তারা ঐক্যফ্রন্টের একটি অংশ। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ড. কামাল হোসেন। এই সংলাপ বিএনপির নেতৃত্বে নয়, হচ্ছে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে।’
দেশের জন্য যেটা ভালো প্রধানমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্ত নেবেন মন্তব্য করে সৈয়দ নজিবুল বশর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। যেটা ভালো মনে করেন, সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে সেটাই তিনি করবেন।’ তবে, যা হবে তা সংবিধানের মধ্যে থেকেই হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।








